MY DRAGON
fff
#আমার_শহরে_তোমার_আমন্ত্রণ_২
#পর্ব৩৪( অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ)
#Raiha_Zubair_Ripti
রাতের আকাশে আজ ইয়া বড় দেখতে থালার মত চাঁদ উঠেছে। আর সেই চাঁদের পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে জ্বলে আছে নক্ষত্র তারা। বেলকনির মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে আছে তৃষ্ণা রাফি। দুজনের দৃষ্টি ঐ আকাশের দিকে। নিরবতা কে শ্বাসরুদ্ধ করার জন্য রাফি তৃষ্ণার বা হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিলো। হাতের উল্টো পাশে হালকা করে ওষ্ঠ ছুঁয়ে দিলো। কেঁপে উঠলো তৃষ্ণা। ডান হাতে খামচে ধরলো পড়নের পেঁয়াজ কালারের শাড়ি। রাফি হাত মুঠোবন্দি করেই আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে-
-❝ পৃথিবী বলো কার চাঁদ সবচেয়ে সুন্দর, তোমার আকাশে থাকা চাঁদ নাকি আমার হৃদয়ে থাকা চাঁদ,কোনটা?❞
কথাটা বলে তৃষ্ণার দিকে তাকালো। চোখাচোখি হলো দু'জনের। তৃষ্ণা মাথা নত করে ফেললো তা দেখে রাফি মুচকি হাসলো। তৃষ্ণার নত হয়ে যাওয়া মুখ উঁচু করে কপালে চুমু খায়। চোখে চোখ রেখে বলে-
-“ যাও ঘুমিয়ে পড়ো রাত অনেকটাই হয়েছে।
তৃষ্ণার ঠোঁট কম্পিত হলো। এদিক ওদিক তাকিয়ে মিহি কন্ঠে বলে উঠলো-
-“ আপনি ঘুমাবেন না?
রাফি তৃষ্ণার ধরে রাখা নিয়ে রুমে ঢুকতে ঢুকতে বলে-
-“ আমার কিছু কাজ বাকি আছে। সেগুলো শেষ করেই ঘুমাবো। তুমি ঘুমিয়ে পড়ো।
-“ আজ আমাদের বাসর রাত ভুলে গেছেন?
বেফাঁস মুখে কথাটা বলে ফেলে তৃষ্ণা। রাফির ভ্রু কুঁচকিত হয়। নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলল-
-“ বাসর করার জন্য ভীষণ তাড়া নাকি?
তৃষ্ণা এদিক ওদিক তাকালো। মুখ ফস্কে কথাটা বলে ফেলছে। এখন এটা নিয়েও রাফি খেপাবে।
-“ আ..আপনার না কি কাজ আছে আপনি শেষ করুন। আমি ঘুমাবো।
কথাটা বলে তড়িঘড়ি করে তৃষ্ণা বিছানায় গিয়ে একপাশ ঘেঁষে শুয়ে পড়লো। রাফি ঠোঁট কামড়ে হেঁসে চাদর টা তৃষ্ণার শরীরে দিয়ে লাইট অফ করে সোফায় বসে ল্যাপটপ টা কোলে নিয়ে।
বিছানায় তুষারের লোমযুক্ত বুকের উপর মাথা দিয়ে শুয়ে আছি চিত্রা। তুষারের হাত চিত্রা চুলের ভাজে। কখন চিত্রার কপালে ওষ্ঠ ছুঁয়ে দিচ্ছে তো কখন চুলের ভাজে। আর চিত্রা মনোযোগ সহকারে তুষারের বুকে আঁকিবুঁকি করে যাচ্ছে। রুম জুড়ে পিনপিনে নিরবতা। নিরবতা ভেঙে চিত্রা আহ্লাদী স্বরে বলে-
-“ এমপি মশাই।
তুষার হুমম বললো। চিত্রা মাথা তুলে তাকালো। তুষারের মুখ বরাবর মুখ এনে বলল-
-“ আমি কিছু চাইবো দিবেন?
তুষার হাল্কা মাথা উঁচু করে চিত্রার নাকের ডগায় চুমু খেয়ে বলে-
-“ মুখ ফুটে চেয়ে দেখুন শুধু।
চিত্রা মুচকি হাসলো। তুষারের গলা জড়িয়ে বায়নার স্বরে পিচ্চিদের মতো বলল-
-“ আমার একটা ছোট্ট তুষার চাই দিবেন?
তুষার চিত্রার মুখে সামনে আসা চুলগুলো কানের পেছন গুঁজে দিয়ে বলে-
-“ তুমি নিজেই এখনও পিচ্চি শোনা। এই তুষারকেই সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাও। ছোট্ট তুষার আসলে তোমাকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।
-“ আমি মোটেও পিচ্চি না। আমার ছোট্ট একটা তুষার চাই। যার নরম তুলতুলে স্পর্শে আপনার আর আমার সকাল ভাঙবে আর ভাঙা কান্নার গলার আওয়াজে ঘুম। আমি আর আপনি সমন্বয়ে ও আসলে হবো আমরা।
-“ পাগলি বাচ্চা দেওয়ার মালিক আল্লাহ। তুমি আমি চাইলেই তো আর বাবু এসে পড়বে না।
-“ আমি আর এখন থেকে কোনো মেডিসিন খাবো না।
তুষার চিত্রা কে ভালো করে জড়িয়ে ধরে বলে-
-“ ছেলে মানুষি কেনো করছো জান। সময় এখনও ফুরিয়ে যায় নি। মাত্র মাস কয়েক হলো আমাদের বিয়ের। বছর খানিক যেতে দাও।
-“ উহু এমপি মশাই আমার ভীষণ শখ একটা ছোট্ট তুষারের। আপনি না করছেন কেনো এতো? আমি খুব আদর করবো ছোট্ট বাবু টাকে। একটু ও কাঁদাতে দিবো না।
-“ আচ্ছা ভেবে দেখবো। এখন ঘুমানোর চেষ্টা করো।
-“ কতদিন লাগবে ভাবার জন্য?
-“ ভীষণ প্রশ্ন করছো পাখি। আমি এই বিষয় টা এভয়ড করতে চাচ্ছি।
-“ এভয়ড কেনো করতে চাইছেন? আপনি সারাদিন বাসায় থাকেন না। কয়েকদিন পর আমার এক্সাম ও শেষ। তখন এই চার দেওয়ালে একা একা কি করবো আমি? একটা বাচ্চা থাকলে আমি তাকে নিয়ে মেতে থাকতে পারবো।
চিত্রার গমগমে গলায় বলা কথা গুলে শুনে তুষার বলল-
-“ আচ্ছা আচ্ছা আমরা বেবি নিবো।
-“ পাক্কা?
-“ হুমম।
-“ ভালোবাসি।
-“ বুঝলাম।
-“ কি বঝলেন?
-“ ভালোবাসো এটা বুঝলাম।
-“ আর আপনি বাসেন না বুঝি?
তুষার শোয়া থেকে উঠে চিত্রার উপর ঝুঁকল। চিত্রার তুলতুলে গালে নিজের খোঁচা দাড়ি ওয়ালা গাল ছুঁইয়ে দিয়ে বলে-
❝ আমি তোমাকে ভালোবেসে চেয়েছি বলেই,,আমাকে যে ভীষণ ভাবে ভালোবেসে চেয়ে গেছে সে আমাকে পায় নি।❞
চিত্রা তুষারের গালে হাত রাখলো। কুঁচকে যাওয়া কপাল নিয়ে চেয়ে বলে-
-“ আপনাকে কেউ ভালোবেসে চেয়েছিল?
তুষার হাল্কা হাসলো
-“ চাইতেই পারে অস্বাভাবিক তো নয়। যথেষ্ট হ্যান্ডসাম ড্যাশিং দেখতে তোমার বর। কলেজ ভার্সিটিতে বেশ সংখ্যক মেয়ের স্বপ্নের পুরুষ ছিলাম। তাদের মধ্যে তো চাইতেই পারে তাই নয় কি?
চিত্রা পলকহীন নয়নে তাকিয়ে রইলো তুষারের দিকে।
-“ আপনি এতে সুন্দর কেনো এমপি মশাই? অসুন্দর হলে তো আর এতো মেয়ের স্বপ্নের পুরুষ হতেন না।
-“ আমার বউয়ের পেছনে কম ছেলের লাইন নাকি? একটা যেতে না যেতেই আরেকটা এসে জুটে।
চিত্রা এবার হেসে উঠলো। তুষারের উন্মুক্ত পিঠে হাত দিয়ে বলল-
-“ এবার ঘুমান। শুভ রাত্রি।
তুষার চিত্রার কথার প্রতিত্তোরে চিত্রার গলায় চুমু খেয়ে পাশে শুয়ে বলে-
-“ শুভ রাত্রি বউ জান।
জানালা ভেদ করে সূর্য্যি মামা তার রশ্মি ছড়িয়ে দিচ্ছে রুম জুড়ে। আশপাশে পাখি গুলোর কিচিরমিচির গুঞ্জনে আশেপাশ টা মনোমুগ্ধকর হয়ে উঠেছে। আর পাশে উল্টো হয়ে শুয়ে তার ব্যাক্তিগত পুরুষ। এমন এক সকালের স্বপ্ন দেখে এসেছে একুশের ঘরে পা দেওয়া রমণী। কথটা গুলো ভাবতেই ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠলো এক চিলতে হাসি। বিছানা থেকে নেমে তড়িঘড়ি করে নিজের রুমে চলে গেলো তৃষ্ণা।
তৃষ্ণা যেতেই রাফি চোখ মেলে তাকায়। তারপর নিজেও বিছানা থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নেয়।
চিত্রা আর তানিয়া বেগম রান্না করছে। তুষার বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। তৃষ্ণা এসে রান্না ঘরের সামনে দাঁড়ায়। তানিয়া বেগম এক পলক তাকায় তারপর নিজের কাজে মনযোগ দেয়। চিত্রা তৃষ্ণা কে দেখে বলে-
-“ কিছু লাগবে?
তৃষ্ণা মাথা নেড়ে না জানায়। এরমধ্যে উপর থেকে তুষারের গলার আওয়াজ আসে। এক কাপ ব্লাক কফি চাচ্ছে। তানিয়া বেগম কফির মগে কফি ঢালতে ঢালতে চিত্রার উদ্দেশ্যে বলে-
-“ কফি টা নিয়ে যাও চিত্রা।
চিত্রা শ্বাশুড়ির কথা মতো কফির মগ টা নিয়ে উপরে চলে যায়। তানিয়া বেগম এবার আরেক মগে কফি ঢেলে বলে-
-“ রাফিকে গিয়ে দিয়ে আয় এটা।
তৃষ্ণা এটারই অপেক্ষায় ছিলো। দাঁড়িয়ে থেকে সময় ব্যায় না করে কফির মগ নিয়ে উপরে চলে গেলো।
অধরা আজ সকাল সকাল ই বাসা থেকে বের হয়েছে। কাল প্রোগ্রাম ভার্সিটি তে। সে নিয়ে ভীষন ব্যাস্ততা তার। ম্যানেজমেন্টের এক বিশাল বড় দায়িত্ব এসে পড়েছে তার কাঁধে। সেই দায়িত্ব পালন করতেই তাকে এই সাত সকালে ছুটতে হচ্ছে। রাতুলের সাথে কালকের পর আর কথা হয় নি এখনও অব্দি। রাতুলও ফোন দেয় নি দেখে অধরা নিজেও আর ফোন দেয় নি৷ ভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরে তারপর ফ্রী হয়ে ফোন দিবে।
ভার্সিটির গেইটে পা রাখতেই দেখে পুরো রাস্তা মাঠ সাজানোর পুরোদমে কাজ চলছে। প্রজাপতি মেলা বলে কথা যেনোতেনো করে সাজালে চলে নাকি?
অধরা মুগ্ধ হয়ে তাকালো চারিপাশে। বেশ কিছুদিন আগেই অতিথি পাখির মেলা হয়ে গেলো।
কয়েকদিন পর পরই এই ভার্সিটি টা বিভিন্ন উৎসবমুখর হয়ে মেতে থাকে। অধরা হাঁটতে হাঁটতে তার ডিপার্টমেন্টের দিকে এগিয়ে গেলো।
ক্লাসে ঢুকতেই দেখা হয়ে গেলো সুমন স্যারের সাথে। যিনি অধরাদের ডিপার্টমেন্টের হেড। অধরা বিনয়ী হয়ে সালাম জানালো। লোকটা প্রতিত্তোরে মিষ্টি হাসি উপরহার দিয়ে সালামের জবাব দিলো। অধরা ক্লাসে গিয়ে দেখলো তার বন্ধু বান্ধবীদের প্রোগ্রাম নিয়ে প্ল্যান প্রায় শেষের দিকে। অধরা হাফ ছেড়ে বাঁচে। চুপচাপ গিয়ে স্মৃতির পাশে গিয়ে বসে।
তেমন ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের সম্পর্কে এখনও হয়ে উঠে নি কারো সাথে অধরার। হালকা পাতলা কথা হয় এই যা। তবে ক্লাসের বেশ কিছু সংখ্যক ছাত্র ছাত্রী অধরাকে বেশ মানে। ক্লাসে স্যার আসতেই সবাই ক্লাসে মনোযোগী হয়।
বসন্তের বিকেলে, চিত্রা কে নিয়ে অধরা এসেছে মার্কেটে। কাল উৎসব কলেজে সে উপলক্ষে কেনাকাটা করতে। একাই আসতে হতো মার্কেটে তাই চিত্রা কে নিয়ে এসেছে। প্রচুর ভীড় জমেছে মার্কেটের সামনে। চিত্রা আর অধরা ভীড় ঠেলে কোনো রকমে বের হয়। শাড়ির দোকানে গিয়ে একটা বাসন্তী কালারের শাড়ি কিনে অধরা। শাড়ি নিয়ে বের হতেই অধরা চিত্রা কে এক সাইডে দাঁড় করিয়ে একটা কসমেটিকসের দোকানে ঢুকে এক জোড়া পায়েল কিনতে।
চিত্রা চুপচাপ দাঁড়িয়ে না থেকে রাস্তার পাশ ঘেঁষে হাঁটতে লাগলো। আবার সেই ভীড় গুলোর মাঝে এসে থেমে গেলো। বিরক্তি নিয়ে আশেপাশে তাকালো। উদ্দেশ্য তার ভীড় ঠেলে গাড়ির কাছে যাবে। ভীড়ের মধ্যে যেতেই চিত্রা অনুভব করলো কেউ তাকে জোরে ধাক্কা মারলো। ধাক্কা সামলাতে না পেরে উল্টো হয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে যেতে নিলে কেউ একজন ভীড়ের মধ্যেই চিত্রার বাহু ধরে ফেলে। চিত্রা পড়ে যাওয়া থেকে বেঁচে যায়। হাত ধরে রাখা মালিকের দিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।
-“ ওহ্ অধরা আপু।
অধরা চিত্রা কে সোজা করে দাঁড় করলাো। ভীড় ঠেলে গাড়ির কাছে এসে বলে-
-“ তোমাকে না আমি দাঁড়াতে বললাম। ভীড়ের মধ্যে একা একা আসতে নিয়েছিলে কেনো? একটুর জন্য তো ধাক্কাধাক্কি তে পড়ে যাচ্ছিলে।
চিত্রার মনে হওয়া কথাটা চেপে গেলো। মনের ভুল হতে পারে। সত্যিই হয়তো ভীড়ের ধাক্কাধাক্কি তে পড়ে যাচ্ছিলো।
#চলবে?
Acc.56__MY WOLF
Acc.57__LOVER
Acc.58__DARLING
Acc.59__PRINCESS
Acc.60__THE PAINTING
Acc.61__LAW
Acc.62__WARRIOR
Acc.63__SHE IS HERE
Acc.64__FORBIDDEN
Acc.65__ADORABLE
#জোর_করে_ভালোবাসবো_তোকে
#পর্ব - ১২
#শিফা_আফরিন
.
🍁
রিমি দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলেই চিৎকার করে উঠে...
রিমি - ভাইয়াআআ...
রেহান সোজা হয়ে দাড়াতে পারছে না। হাতে ড্রিংক এর বোতল। শার্টের ইন টাও ঠিক নেই। টাই টাও অর্ধেক খুলে বাঁকা হয়ে আছে। চুল গুলো এলোমেলো।
রিমি এই প্রথম নিজের ভাইকে এতো টা অগোছালো দেখছে। যে ছেলে এতোটা পরিপাটি তার আজ এই হাল শুধুমাত্র আঁচলের জন্য। হ্যা...আঁচলের জন্যই আজ ভাইয়া ড্রিংক করেছে। রিমি কিছুতেই রেহানের এমন অবস্থা মানতে পারছে না।
রিমি - (সব হয়েছে তোমার জন্য ভাবি। আমার ভাইয়া আজ পর্যন্ত ড্রিংক করা তো দূরে থাক খারাপ কোনো ছেলেদের সাথে কথাও বলেনি। আমার ভালো ভাইয়াটা তোমার জন্য এই পথে গিয়েছে। আমি তোমাকে কখনো ক্ষমা করবো না ভাবি। নেভার... মনে মনে)
রেহানের বাবা মা একপ্রকার দৌড়ে দরজার সামনে আসে।
রেহানের বাবা - কিরে রিমি তুই ভাইয়া বলে চিৎকার করে আর কিছু বললি না ক.......
রেহানের বাবা মা রেহানকে দেখে থমকে যায়। এই রেহান যেনো তাদের কাছে অচেনা লাগছে।
রিমি আগের মতোই ঠাঁই দাঁড়িয়ে কেঁদে যাচ্ছে।
রেহানের মা - রেহান তোর এই অবস্থা কেনো? কি হয়েছে তোর। (রেহানকে ঝাকুনি দিয়ে)
রেহান ওর মার কাধে মাথা ফেলে মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দেয়।
রেহান - মা জানো ও আমাকে অনেক কষ্ট দিচ্ছে। আমি আর পারছি না মা। তুমিই বলো আমি কি এতোটাই খারাপ মা। মা আমার সত্যিই অনেক কষ্ট হই। মরে যেতে ইচ্ছে করে। তুমি তো জানো মা আমি কখনো কাউকে ভালোবাসি নি। ওকে তো প্রথম থেকেই অনেকটা ভালোবেসে ফেলেছি। নিজের থেকেও বেশি। ও কেনো বুঝতে পারে না মা। ওকে তুমি বুঝাও না ও আমাকে ছেড়ে চলে গেলে আমি মরেই যাবো মা। (কাঁদতে কাঁদতে)
রেহানের মুখে মরে যাওয়ার কথা শুনে রেহানের মার ভেতর টা কেমন মোচড় দিয়ে উঠে। রিমিও শব্দ করে কেঁদে দেয় রেহানের মা শক্ত করে রেহান কে জড়িয়ে ধরে বলে....
রেহানের মা - কি হয়েছে তোর বাবা? কেনো এই সব বলছিস? কি হয়েছে আমাকে বল না। (কেঁদে দিয়ে)
রেহানের বাবা - কিরে রিমি রেহান এইসব কেনো বলছে রে। কি হয়েছে ওর ?
রিমি - মা বাবা তোমরাও না! দেখতেই তো পারছো ভাইয়ার অবস্থা। কি থেকে কি বলে ফেলছে এই সব না ধরলে হইনা?
আমি বরং ভাইয়া কে রুমে দিয়ে আসি। কিছুক্ষন পর লেবুর পানি খাইয়ে আসবো নি।
রিমি রেহানের কাছে যেতেই রেহান ইশারা করে রিমিকে দাঁড়াতে বলে।
রেহান - আমি যেতে পারবো। তুই রুমে যা।
রিমি - ভাইয়া তুই পারবি না। তুই তো দাঁড়াতেই পারছিস না যাবি কিভাবে?
রেহান - বললাম না আমি পারবো তুই যা। বলেই রেহান দুলতে দুলতে রুমের দিকে যেতে থাকে।
রেহানের মা - রিমি তুই বরং রেহানের জন্য লেবুর পানি নিয়ে যা।
রিমি - হ্যা মা যাচ্ছি।
এদিকে আঁচল বেলকনিতে কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে।
রেহান ধীরে ধীরে রুমে এসে আঁচলকে খুজছে কিন্তু পাচ্ছেনা।
রেহান সারা রুম পাগলের মতো খুজছে কিন্তু আঁচলকে কোথাও দেখতে পায় না।
রেহান - আমি যা ভেবে ছিলাম তাই হয়েছে। তুমি ঠিক আমাকে ছেড়ে চলে গেলে আঁচল। তুমি ঐ জিসানের সাথে চলে গেলে!
আমি কিভাবে থা......
হটাৎ রেহানের চোখ যায় বেলকনিতে। রেহান স্তব্ধ হয়ে যায়। আঁচল গুটিশুটি মেরে বেলকনিতে শুয়ে আছে।
রেহান - এইতো আমার আঁচল। আমি জানতাম তুমি কখনো আমায় ছেড়ে যেতে পারবে না। সরি সোনা তোমায় আবার ভুল বুঝেছিলাম।
রেহান বেলকনিতে আঁচলের কাছে যায়। আঁচল গভীর ঘুমে। চুল গুলো এলোমেলো হয়ে আছে। রেহান আঁচলের মাথার কাছে বসে পড়ে।
একহাতে আঁচলের মাথাটা নিজের কোলে রাখে। আরেক হাতে আঁচলের চুল গুলো ঠিক করতে থাকে।
আঁচল কিছুটা নড়েচড়ে উঠে।
হটাৎ রেহান আঁচলের ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দেয়। ঘুমের মধ্যেই আঁচলের মনে হচ্ছে কেউ যেনো তার নিশ্বাস বন্ধ করে ফেলতে চাইছে।
আঁচল সাথে সাথে চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে রেহান।
আঁচল রেহানকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেয়।
রেহান কিছুটা দূরে সরে যেতেই আঁচল তারাতারি করে উঠে বসে।
আঁচল - আপনি ড্রিংক করেছেন? (অবাক হয়ে)
রেহান - কই! না তো।
আঁচল - একদম মিথ্যে বলবেন না। ড্রিংক না করলে আপনার মুখ থেকে এতো বাজে গন্ধ কেনো আসছে। আপনি ড্রিংক ও করেন? কই আগে জানতাম না তো! আর কি কি গুন আছে আপনার।
রেহান আঁচলের কথার উত্তর না দিয়ে আঁচলের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ে। আঁচল বেশ অবাক হয়ে যায়। হটাৎ করে রেহান এমন কিছু করবে আঁচল ভাবতেও পারেনি।
রেহান - বেইবি জানো আমি তখন তোমাকে কোথাও পাচ্ছিলাম না। আমার না অনেক কষ্ট লাগছিলো। এইযে এইখানে কষ্ট হচ্ছিলো (নিজের বুকে হাত দিয়ে)
আমি তো তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তুমি জিসানকে ভালোবাসো আমি আর কিছু বলবো না কিন্তু আমাকে ছেড়ে যেও না সোনা।
আঁচল রেহানের এমন বাচ্চামো দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
আঁচল- আপনি উঠে রুমে যান। এখন আপনার মাথা ঠিক নেই৷।
রেহান - তুমি নিয়ে চলো না বেইবি প্লিজ। (করুন সুরে)
আঁচল - আমি কিভাবে নিবো শুনি?
রেহান - কেনো? কোলে করে নিবে! (মুচকি হেসে)
রেহানের কথা শুনে আঁচল যেনো গাছ থেকে ধপ করে পড়েছে। বলে কি? ড্রিংক করে কি মাথার তার কয়েকটা ছিড়ে গেলো নাকি!
আঁচল - আপনার মাথা টা কি গেছে? কি সব বলছেন আপনি? আমি আপনাকে কোলে নিবো? আপনার মতো একটা হাতিকে আমি কোলে নিতে পারবো? কি মনে হই আপনার!
রেহান - ওওও পারবে না! (অসহায় ভাবে)
আঁচল - না পারবো না।
রেহান - তাহলে আর কি করার আমিই বরং তোমাকে কোলে নিয়ে যাই। (আঁচলের কোল থেকে মাথা তুলতে তুলতে)
আঁচল - কিইইই!!! আপনি এই অবস্থায় আমাকে কোলে নিবেন!! আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন? নিজেই তো ঠিক করে হাটতে পারছেন না আবার আমাকে কোলে নিয়ে আমার কোমড় টার বারোটা বাজাবেন তাই তো!
রেহান - মোটেই না। দেখোই না পারি কিনা। বলেই রেহান আঁচলকে কোলে তুলে নেয়।
আঁচল বেচারি ভয়ে কাচুমাচু হয়ে গেছে। এমনিতেই রেহান দুলতে দুলতে হাটছে তার মধ্যে আবার আঁচলকে কোলে নিয়েছে। এখন যদি ফেলে টেলে দেয় তো কি হবে!!
আঁচল - দেখুন রেহান ভালোই ভালোই আমাকে নামান বলছি। বেশি বাড়াবাড়ি করছেন আপনি। নামান আমায়।
কে শুনে কার কথা রেহান দুলতে দুলতে আঁচলকে নিয়ে রুমে যাচ্ছে।
আঁচল ভয়ে রেহানের শার্টের কলার শক্ত করে ধরে আছে।
রেহান আঁচলকে খাটের কাছে এনেই ধপ করে বিছানায় ফেলে দিয়ে নিজেও আঁচলের উপর পড়ে যায়।
আঁচল - রেহান আপনার মুখ থেকে বাজে গন্ধ বের হচ্ছে প্লিজ আপনি সরুন।
রেহান আঁচলের মুখের সামনে মুখ এনে দেখে আঁচল চোখ মুখ খিচে আছে।
রেহান - বাজে গন্ধই তোমাকে সহ্য করতে হবে বেইবি। (মুচকি হেসে)
আঁচল - কি হচ্ছে টা কি। ছাড়ুন আমায়। আপনি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসুন। আপনার মুখের বাজে গন্ধ টা কিছুটা হলেও কমে যাবে। যান প্লিজ।
রেহান - তুমি ফ্রেশ করিয়ে দাও না বেইবি। (আঁচলের গলায় মুখ গুঁজে)
রেহানের কথা শুনে আঁচলের চোখ বড় বড় হয়ে যায়।
আঁচল - বুঝেছি আপনি এবার সত্যিই পাগল হয়ে গিয়েছেন তাই এই সব অদ্ভুত কথা বলছেন। আর কিছুক্ষন আপনার সাথে থাকলে না আমিও পাগল হয়ে যাবো বুঝেছেন?
রেহান - আমি কি এমন ভুল বলেছি? আমি তো তোমার স্বামীই তাই না।
আঁচল - স্বামী না ছাই। আপনি যান তো। (বিরক্ত হয়ে)
রেহান - না যাবো না (কাঁদো কাঁদো হয়ে)
আঁচল রেহানের ফেইস দেখে না হেসে পারে না। কেমন বাচ্চাদের মতো আচরণ করছে দেখো।
দেখলে তো মনেই হবেনা উনি এক নাম্বারের ডেভিল।
চলবে...???
I'm a phantom thief but i Faked a marrage
with an investigator
Contrary to popular belief, Lorem Ipsum is not simply random text. It has roots in a piece of classical Latin literature from 45 BC, making it over 2000 years old. Richard McClintock, a Latin professor at Hampden-Sydney College in Virginia, looked up one of the more obscure Latin words, consectetur, from a Lorem Ipsum passage, and going through the cites of the word in classical literature, discovered the undoubtable source. Lorem Ipsum comes from sections 1.10.32 and 1.10.33 of "de Finibus Bonorum et Malorum" (The Extremes of Good and Evil) by Cicero, written in 45 BC. This book is a treatise on the theory of ethics, very popular during the Renaissance.
It is a long established fact that a reader will be distracted by the readable content of a page when looking at its layout. The point of using Lorem Ipsum is that it has a more-or-less normal distribution of letters, as opposed to using 'Content here, content here', making it look like readable English. Many desktop publishing packages and web page editors now use Lorem Ipsum as their default model text, and a search for 'lorem ipsum' will uncover many web sites still in their infancy.
Pictures that are used aren't mine. Credit goes to the real owners. All the characters are imaginary so please don't take them seriously.
Download NovelToon APP on App Store and Google Play