English
NovelToon NovelToon

ফুটবল প্রাঙ্গণে

The rose she threw back

ভালোবাসি তোমাকে… প্রথম দেখাতেই তোমাকে খুব বেশি ভালোবেসে ফেলেছি।”

কথাটা শোনা মাত্রই মেয়েটির মাথায় রাগ উঠে গেল।

কেন জানি “ভালোবাসা” শব্দটাই সে সহ্য করতে পারে না।

তবে পরক্ষণেই নিজেকে কিছুটা সামলে নিল।

সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটার হাতে ধরা লাল গোলাপটা সে নিয়ে নিল—

চারপাশে সবার দৃষ্টি তখন ওদের দিকেই।

কিন্তু সেই ফুল ভালোবাসা গ্রহণ করার জন্য নয়…

পরের মুহূর্তেই সে ফুলের পাপড়িগুলো ছেলেটার মাথায় ছুড়ে দিয়ে সেখান থেকে চলে গেল আর যাবার সময় বলল এসব ভালোবাসা নিয়ে আমার কাছে কখন আসবে না।

মাঠে ঘটে যাওয়া এই দৃশ্যটা যেন সবাইকে থমকে দিল।

ছেলেটা কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল…

এত সুন্দর, শান্ত একটা মেয়ে—এভাবে অপমান করতে পারে?

ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ পিছন থেকে ডাক—

“এই ফয়সাল! এখনো এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? চল, ক্লাসে দেরি হয়ে যাচ্ছে!”

ফয়সাল ঘুরে দাঁড়াল।

“ও মেয়ে কে রে?”

দ্বীপ হালকা হেসে বলল,

“নতুন এসেছে… নাম অর্পিতা ব্যানার্জি।”

ফয়সাল চোখ সরায় না—

“সবাই যেখানে আমার জন্য পাগল… সেখানে ও আমাকে রিজেক্ট করল?”

একটা কলেজের প্রথম দিনে অর্পিতা কিছুই ভালো লাগছে না তার মধ্যে রুপার এত এত কান্না দেখে রাগ উঠে যাচ্ছে।

রূপা চোখ মুছছে বারবার।

তার কান্না কিছুতেই সহ্য হলো না মেয়েটির।

“এই ন্যাকামি কান্না বন্ধ কর তো!” — বিরক্ত গলায় বলল সে।

রূপা মাথা তুলে কাঁপা গলায় বলল—

“আমি কাঁদতে চাই না… কিন্তু চোখ দিয়ে পানি পড়ে… কী করব বল?”

সে বিরক্ত হয়ে বলল—

“ব্রেকআপ হয়েছে, হয়েছে… তাই বলে এমন কান্না?”এত কান্না কই থেকে আসে তোর

দেখ ভাই ইচ্ছা করে না কেউ কান্না করে না তাই কান্না করে মনটাকে হালকা করছি।

যা ইচ্ছা তাই কর তুই কিন্তু আমার পাশে বসে না

তৎক্ষণাৎ রুপা উঠে গিয়ে অন্য একটা মেয়ের পাশে যেয়ে বসে কান্নাকাটি শুরু করল।

কি হয়েছে তোমার তুমি এভাবে কান্না করছো কেন?

মেয়েটির কথায় রুপা বলল এমনি ভালো লাগছে না তাই

ও আচ্ছা

আকাশে মেঘ জমেছে,,

আকাশটা ধীরে ধীরে মেঘলা হয়ে আসছে।

হয়তো বৃষ্টি নামবে…

কিন্তু তার থেকেও বড় ঝড় বইছে ফয়সালের মনে।

সকালের সেই মেয়েটা—

তার আচরণ কিছুতেই ভুলতে পারছে না সে।

ঠিক তখনই দ্বীপ এসে বলল—

“নাম অর্পিতা ব্যানার্জি… গোপালগঞ্জ থেকে এসেছে। আজ প্রথম দিন কলেজে।”

ফয়সাল মুচকি হাসল—

“লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট…” সে আমার কিন্তু কি করলো

দ্বীপ অবাক দৃষ্টিতে তাকালো

বুঝেছি তুইও ভাই প্রেমে পড়িস ,

ফয়সাল ধীরে বলল—

“শুধু বুঝলে হবে না… ওকে আমার লাগবেই। ব্যবস্থা কর।”

আরেকদিকে…

বৃষ্টি সারারাত মুভি দেখে এখনো ঘুমাচ্ছে।

আজ তার কলেজের প্রথম দিন—

কিন্তু তার কোনো খেয়ালই নেই।

হঠাৎ ফোন আসে

রূপা বাসায় গিয়ে দেখে পাত্রপক্ষ বসে আছে।

তাড়াতাড়ি বৃষ্টিকে ফোন করল—

২১ বার রিং হওয়ার পর ফোন ধরল সে।

“কি হয়েছে?”

রূপা সব খুলে বলল।

“আমার ব্রেকআপ হয়ে গেছে… আর এখন ওরা আমাকে দেখতে এসেছে! কিছু একটা কর!”

বৃষ্টি হাই তুলে বলল—

“চিন্তা করিস না… তোর এখানে বিয়ে হবে না।”

“আমি তোর সোনা না!”

“ঠিক আছে ঠিক আছে… ছেলের ডিটেইলস বল।”

কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়—

অর্পিতা কেন ‘ভালোবাসা’ শব্দটা সহ্য করতে পারে না?

চলবে…

অনেক টুইস্ট আসছে চলেছে সবাই চোখ রাখবেন।

প্রথম থেকে ভালো না লাগলেও আশা করি মাঝখানে যে আপনাদের অনেক বেশি ভালো লাগলো গল্পটি বন্ধুকে পাশে থাকবেন আর কোন ভুল হলে অবশ্যই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, রহস্য সবকিছু নিয়েই থাকছে এই উপন্যাসটি।

she is my personal bird

*কলেজ গেট, ৮:৪৫ মিনিট*

অর্পিতা, রুপা, বৃষ্টি—তিনজন একসাথে ঢুকছে। ঢুকতেই বাতাস ভারী। সব মেয়ের চোখ ওদের দিকে। ফিসফাস কানে আসছে।

"...ওই যে মেয়েটা... ফয়সালকে না করছে..."

"...শুনছিস? কাল রাতে নাকি ফয়সাল ওর বাসার নিচে গেছিল..."

"...ধুর, ফয়সাল তো বলছে ওরা নাকি বিয়ে করতেছে!"

অর্পিতার পা থেমে গেল। চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো। "কী? বিয়ে?" তাও আবার কিনা ওই ছেলের সাথে..

রুপা ওর হাত চেপে ধরলো। "কান দিস না, মানুষের আর কাজ কি গুজব তো ছড়াবেই । চল ক্লাসে।"

কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। করিডোরের শেষ মাথায় ফয়সাল দাঁড়িয়ে। হাতে কোকের ক্যান। চোখ দুটো লাল। রাতে ঘুমায়নি বোঝাই যাচ্ছে।

ওদের দেখেই সোজা এগিয়ে এলো। দূরত্ব মাত্র দুই হাত।

"অর্পিতা," গলাটা শান্ত, কিন্তু ভেতরে ঝড়। "কালকের জন্য সরি। কিন্তু একটা কথা ক্লিয়ার করি। আমি তোমার নামে কোনো গুজব ছড়াইনি।"

অর্পিতা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো। "তাই? তাহলে পুরো কলেজ কেন বলতেছে তুমি আর আমি নাকি 'হ্যাঁ' বলে দিছি? কাল রাতে আমার বাসার নিচে কে গেছিল, ফয়সাল?"

ফয়সাল থমকে গেল। "আমি যাইনি। আমি শপথ করে বলছি।

"মিথ্যা!" চিৎকার করে উঠলো অর্পিতা। রাগে কাঁপতে কাঁপতে পাশের বেঞ্চ থেকে একটা কোকোকোলার ক্যান তুলে নিলো। দুই মিনিটে শেষ। খালি ক্যানটা হাতে মুচড়ে ধরে সোজা ফয়সালের বুকে ছুঁড়ে মারলো।

_ঠং!_

ক্যানটা পড়ে গড়াতে লাগলো। ফয়সাল এক পাও নড়লো না। শুধু চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে অর্পিতাকে।

পরের মুহূর্তে অর্পিতা ওর কলার চেপে ধরলো। সাদা শার্টটা টানটান হয়ে গেল। "এত বড় সাহস তুই এসব মিথ্যা কেন বলিস? এই বাস্টার্ড! ভাবছিস তুই ভালো শিক্ষার্থী, দেখতে শুনতে ভাল বলেই সব মেয়ে তোর পায়ে পড়বে?"

পুরো করিডোর নিস্তব্ধ। একশো জোড়া চোখ, একশোটা ফোন ক্যামেরা।

ফয়সাল ধীরে ধীরে অর্পিতার হাতটা নিজের হাত দিয়ে ঢেকে দিলো। ওর হাত বরফ ঠান্ডা, ফয়সালের হাত আগুন গরম।

"আমি মিথ্যা বলি না, অর্পিতা," ফিসফিস করে বলল, যাতে শুধু ও শুনতে পায়। "আর আমি তোমাকে ভয় পাই না। আমি তোমাকে চাই। তুমি আমার প্রথম 'না'। আর আমি 'না' শুনতে অভ্যস্ত না।"

এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে নিলো অর্পিতা। ফয়সালের শার্টের উপরের দুটো বোতাম ছিঁড়ে গেল। তবে সেদিকে কোনো খেয়াল নেই ছেলেটার। তার দৃষ্টি তো সামনে থাকা মেয়েটির পানে। রেগে থাকা মুখটা দেখতেও কি অসম্ভব সুন্দর লাগছে এটা নিয়েই ভাবছে ফয়সাল।

"তোর সাহস দেখে আমি অবাক," থুতু ফেলার মতো করে বলল অর্পিতা। "দ্বিতীয়বার আমার রাস্তায় আসবি না।"

ঘুরে চলে গেল। রুপা আর বৃষ্টি দৌড়ে ওর পিছে।

ফয়সাল দাঁড়িয়ে রইলো। ছেঁড়া শার্ট, বুকে কোকের দাগ, আর ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বাঁকা হাসি।

দ্বীপ দৌড়ে এলো। "ভাই! তুই ঠিক আছিস? মেয়েটা তো পুরা আগুন!"

ফয়সাল শার্টটা ঠিক করার চেষ্টাও করলো না। চোখ দুটো তখনো করিডোরের শেষ মাথায়, যেখানে অর্পিতা মিলিয়ে গেছে।

"আগুনই তো দরকার ছিল রে দ্বীপ," ফিসফিস করে বলল ফয়সাল। "এতদিন তো সব মোমের পুতুল ছিল। এই প্রথম কেউ পুড়ায় দিলো।"

একটু থেমে যোগ করলো, "ওকে আমার লাগবেই। She is bird. She is my personal bird. খাঁচায় পুরবো না। কিন্তু আকাশটা আমার হবে।"

দ্বীপের গলা শুকিয়ে কাঠ। "ভাই তুই... তুই কি সত্যি...?"

"বিয়ে করব," ফয়সাল চোখ না সরিয়েই বলল। "ও রাজি হোক বা না হোক। অর্পিতা ব্যানার্জী হবে অর্পিতা রহমান।"

চলবে.....

পরবর্তী পড়বে একটা নতুন মানুষের আগমন ঘটবে কে হতে পারে সেই ব্যক্তি গেস করেন তো? এই পর্ব কেমন লেগেছে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন আর পরবর্তী পর্ব চাইলেও কমেন্ট করবেন।

Jersey number "10"

১৪ই এপ্রিল। শুভ নববর্ষ।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের মেয়েদের মেসে সাজ সাজ রব। অর্পিতা, বৃষ্টি, রূপা অহনা —চার বান্ধবী ঠিক করেছে আজ শাড়ি পরে ফুটবল ম্যাচ দেখতে যাবে। নববর্ষের দিন, মাঠে উৎসব উৎসব ভাব।

কলেজের দ্বিতীয় দিনে অহনার সাথে ওদের তিনজনের পরিচয় হয় বেশ ভালই ভাব জমেছে চারজনের। অহনার কাজিন সাজ্জাদও এই একই কলেজে পড়ে। সাজ্জাদ অহনাকে ফুটবল খেলা দেখতে যাওয়ার কথা বলে আর অহনা বৃষ্টি,রুপা অর্পিতাকে। অহনা আলাদা বাসায় থাকে। তাই ওরা তিনজন রেডি হয়ে স্টেডিয়ামের ওখানে যাবে ওখানেই অহনা আর ওর কাজিন থাকবে। এগুলোই অর্পিতা বৃষ্টিকে বলছিল।

"এই অপি, আমার আঁচলটা ধর তো!" রূপা লাল-পেড়ে সাদা শাড়ি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

অর্পিতা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হলুদ জামদানিটা ঠিক করছে। কপালে লাল টিপ, হাতে রেশমি চুড়ি, খোঁপায় বেলি ফুল। কাল পর্যন্ত জীবন ছিল শুধু ক্লাস আর ফয়সালের হুমকি। আজ হঠাৎ সব রঙিন লাগছে।

বৃষ্টি ফোনে কথা বলে এসে লাফাতে লাফাতে বললো, "গাইস! অহনার কাজিন সাজ্জাদ ভাইয়া টিকিট ম্যানেজ করে ফেলছে! বলছে গেটের সামনে দাঁড়াতে। ম্যাচের পর ধর্মসাগর পাড়ে ঘুরতেও নিয়ে যাবে।"

এই সাজ্জাদ এটা আবার কে? রুপার প্রশ্নে বৃষ্টি বলা শুরু করল

"আরে অহনার ফুফাতো ভাই। কুমিল্লাতেই থাকে। সেইই আমাদের প্ল্যান করে দিছে,

কুমিল্লা স্টেডিয়াম গিজগিজ করছে। চারদিকে পয়লা বৈশাখের ব্যানার, ঢাকের আওয়াজ, বাচ্চাদের হাতে ঘুড়ি-নাটাই।

গেটের সামনে অহনা দাঁড়িয়ে। হাতে তিনটা টিকিট। "শুভ নববর্ষ! নে ধর। তাড়াতাড়ি ঢোক, খেলা শুরু হয়ে যাবে।"

ওরা গ্যালারিতে উঠে বসলো। মাঠে দুই টিম নামছে। ভিক্টোরিয়া কলেজ vs অন্য কলেজ।

হঠাৎ কমেন্টেটর মাইকে বললো, "আর ভিক্টোরিয়া কলেজের হয়ে স্ট্রাইকার পজিশনে নামছেন আমাদের সবার প্রিয়, আদিত্য রায় চৌধুরী।

অর্পিতা মাঠের দিকে তাকালো।

তৎক্ষণাৎ R15 বাইক থেকে একজন ছেলে নামলো। উচ্চতা ৬ ফুটের কাছাকাছি। ফর্সা গায়ের রঙ, রোদে চকচক করছে। চাপদাড়ি, চুলগুলো খুব সুন্দর করে স্টাইল করা, ঠোটের নিচে তিল। যে কোন মেয়ে দেখলেই ক্রাশ খাবে। হেলমেট খুলে চুলগুলো ব্যাকব্রাশ করতে করতে ভিতরের দিকে হেঁটে যাচ্ছিল দেখে নায়কের থেকে কম লাগছিল না। একটা ছেলের যেমন বডি ফিটনেস হলে সুদর্শন বলে আখ্যায়িত করা যেতে পারে ঠিক তেমন। পরনে ছিল সাদা শার্ট, প্যান্ট আর হাতে অ্যাপেল ওয়াচ। সবকিছু মিলিয়ে জোস লাগছিল ছেলেটাকে দেখতে।

অর্পিতা চোখ ফেরাতে পারলো না। কাল পর্যন্ত যে ছেলেটা তার কলার ধরে 'পার্সোনাল বার্ড' বলেছিল, সে ছিল আগুন। আর এই ছেলেটা? এই ছেলেটা যেন মাঠের সবুজ ঘাস। স্নিগ্ধ, কিন্তু শক্তিশালী।

কিন্তু তার চেয়ে প্রেম করা মানায় না।

পাঁচ মিনিটের মধ্যে চেঞ্জ করে খেলায় নামল।

প্রথম গোলটা সেই সুদর্শন ছেলেটাই দিলো। বল জালে জড়াতেই পুরা গ্যালারি চিৎকার করে উঠলো। শুধু একটাই নাম শোনা যাচ্ছে আদিত্য। গোল দিয়ে কোনো লাফালাফি করলো না। শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে বুকে হাত রাখলো, তারপর গ্যালারির দিকে হালকা মাথা ঝোঁকালো।

সেই মুহূর্তে এক সেকেন্ডের জন্য অর্পিতার মনে হলো

আদিত্যকে সে চিনে। ওদের ক্লাসে পড়তো কত মেয়ে যে ক্রাশ খেয়েছিল ওর উপরে। শুধু এগুলো শুনত কিন্তু কখনো ছেলেটাকে ঠিক ভালোভাবে দেখা হয়নি তাই চিনতে হয়তো একটু অসুবিধাই হল।

খেলা শেষ। ভিক্টোরিয়া কলেজ ২-০ তে জিতেছে। দুই গোলই আদিত্যর।

মেসে ফিরে সবাই ক্লান্ত কিন্তু খুশি। রুপা ঠান্ডা লাচ্ছি বানিয়ে এনেছে।

বৃষ্টি বললো, আদিত্যকে কেমন লেগেছে রে তোদের? ওকে তো আমি সেই প্রথম দেখায় চিনেছি। যতটুকু শুনেছি ও আমাদের কলেজেরই ছাত্র।

তাহলে তো ভালই হইছে। রুপার মুখ আনন্দে চিকচিক করছে।

আর অর্পিতা তাই তাকিয়ে দেখছে।

অর্পিতা চুপচাপ শুনছে। তার কানে বাজছে মাঠের সেই চিৎকার, আদিত্যর গোল দেওয়ার পর শান্ত ভঙ্গিটা। ফয়সালের চোখে যে আগুন থাকে, এই ছেলের চোখে সেটা নেই। এর চোখে আছে গভীর দিঘি।

রুপা বললো, "তাহলে কাল সকাল ১০টায় ধর্মসাগর পাক্কা?"

সবাই রাজি।

সবার অলক্ষ্যে অর্পিতা জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো। কৃষ্ণচূড়া গাছে নতুন পাতা। বাতাসে বেলি ফুলের গন্ধ।

গতকাল পর্যন্ত তার পৃথিবীতে শুধু একজনই ছিল—ফয়সাল। যে ঝড়ের মতো আসে, সব ভেঙেচুরে দিয়ে যায়।

আজ ১৪ই এপ্রিল। শুভ নববর্ষ। আজ প্রথমবার সে দেখলো অন্যরকম একটা ছেলেকে। যে গোল করে লাফায় না, মাথা নিচু করে। যে হুমকি দেয় না, চোখ নামিয়ে হাসে।

ফয়সাল যদি হয় কালবৈশাখী ঝড়,

তবে আদিত্য কি নববর্ষের প্রথম বৃষ্টি?

*[চলবে...]*

পরবর্তী পর্ব চাইলে কমেন্ট করেন।

-

Download NovelToon APP on App Store and Google Play

novel PDF download
NovelToon
Step Into A Different WORLD!
Download NovelToon APP on App Store and Google Play