English
NovelToon NovelToon

ইমরান

নাম :ইমরান লেখিকা:আনজুম অনন্যা

উপন্যাস:ইমরান

লেখিকা আনজুম অনন্যা(অনু)

পর্ব ১

নিঝুম রাত!চারপাশে ঝিঝিপোকার ডাক, আকাশে পুর্নিমার চাঁদ উঠেছে। এমন সুন্দর একটা রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে কান্না করছে এক ১৬বছরের কিশোরী। পূর্নিমার চাঁদ কার না ভালো লাগে! কিন্তুু মেয়েটি পূর্নিমার চাঁদটির দিকেই ঘৃণা ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, চাঁদটা মনে হয় তার সাথে অনেক বড় অন্যায় করেছে! মাথায় তার নীল হিজাব বাধানো, গায়ে কালো বোরকা, তার মুখে একটি কালো মাস্ক। তার চোখ দুটো কি যে মায়াবী!তার রুপ দেখে যে কেউ মুগ্ধ হয়ে যাবে। তার গায়ের রং স্যাম বর্নের! যেনো রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা পরী দাড়িয়ে আছে! তার কাজল কালো মায়াবী চোখ দুটো চাঁদের দিকে ঘৃনা ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে কান্না করছে এবং বলছে “চাঁদ তুমি কেনো আমাকে ভালো থাকতে দিলা না?কেনো আমার থেকে সব নিয়ে গেলে?” তখনই সে শুনতে পায় অন্তুু তাকে ডাকছে। অন্তুু তার শুধু ছোট বোন নয় তার বেস্টফ্রেন্ড

অন্তুু :“আপু রাতের বেলা ছাদে আসতে কে বলেছে? ঘরে চলো,এতো রাতে কেউ ছাদে আসে নাকি? জিন ভুতের ভয় লাগে না?”

এই কথা বলে অন্তুু মিষ্টি মেয়েটির পাশে গিয়ে দাড়ালো, তারপর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো “আমার মিষ্টিখুকু আপু এই সুন্দর চাঁদের প্রতি তোমার কেনো এতো রাগ?”

মেয়েটির নাম মিষ্টিখুকু ছিলো।

মিষ্টিখুকু : “জানো অন্তুু এই চাঁদ আমাকে সর্বহারা করে দিয়েছে! ”

এই কথা বলে মিষ্টিখুকু অন্তুুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো। মিষ্টিখুকু চলে গেলো তার অতিতে। তার অতিত যেমন সুন্দর তেমন ভয়ংকর! সে আকাশের দিকে তাকিয়ে তার অতিত মনে করতে লাগলো।

শীতের সকাল বিছানায় ঘুমিয়ে আছে মিষ্টি খুকু সে এইবার ক্লাস4এ উঠলো, বয়স মাএ ১০বছর। সালটা ২০২০।মিষ্টিখুকুর পাশে ঘুমাচ্ছে তার ছোট বোন অন্তুু,অন্তুুর বয়স ৬বছর, সে এই বছরেই স্কুলে ভর্তি হলো।রান্নাঘরে রান্না করছে মিষ্টিখুকুর মা পরীবিবি তখন হঠাৎ দেখতে পেলো মিষ্টিখুকুর বাবা আমিন অনেক বড় একটা মাছ এনেছে, সেটা দেখে পরীবিবি রেগে গিয়ে বললো “আমি তো তোমাকে মাছ আনতে বলি নি, কেনো নিয়ে আসলা?এমনি এমনি টাকা খরচ করার কি দরকার ছিলো?”

আমিন তখন বললো “কি দরকার মানে? মিষ্টিখুকু কালকে খেতে চেয়েছিলো।”

পরীবিবি : “এই মেয়ের এতো তামাশা আমার আর ভালো লাগে না। মিষ্টিখুকু এই মিষ্টি কয়টা বাজে খেয়াল আছে? তুই কি কখনো ভালো হয়ে যাবি না?এতো অলস কেনো তুই? স্কুলে যেতে হবে না? তুই ওঠ, অন্তুুকেও ওঠা। মুখ ধুয়ে খেতে আয়।”

মিষ্টিখুকুর চোখ দুটো ভারী হয়ে আসছে, তারপরও মায়ের এসব গালাগালির কারনে উঠতে হলো। মিষ্টিখুকু অভিমান করে বললো “আম্মু শুধু আমাকেই গালাগালি করে,অন্তুু যে এখনও ঘুমাচ্ছে তারপরও অন্তুুকে কিছু বলছে না!”

মিষ্টিখুকু এতোক্ষণ অন্তুুকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে ছিলো। অন্তুুর মাথায় হাত বুলিয়ে মিষ্টিখুকু বললো “ওঠো অন্তুুমনী নাহলে তোমাকেও আমার মতো গালি খেতে হবে। আম্মু শুধু আমাকেই গালি দেয়, অন্তুু যে এখনও ঘুমাচ্ছে ওকে কিছু বলে না।”এই কথা বলে মিষ্টিখুকু একটু মন খারাপ করলো।

পরীবিবি :“অন্তুু তোর থেকে অনেক ছোট,ওর সাথে নিজের তুলোনা করিস কেনো?ও যখন তোর মতো বড় হবে, ওকেও তখন বলবো। ” দুই বোন বিছানা থেকে উঠে গেলো, তারপর মুখ ধুয়ে খেতে এলো। পরীবিবি অন্তুু আর মিষ্টিখুকুকে এক প্লেটে খাওয়াচ্ছিলো আর বলছিলো “অন্তুু তোকে ভালো করে লেখাপড়া করতে হবে, আর মিষ্টিখুকু তোকেও কিন্তুু অন্তুুর মতো বুদ্ধিমতী হতে হবে, এতো বোকা হলে হবে না কারন মেয়েরা সাড়াজীবন মা বাবার কাছে থাকে না, তাদের একদিন পরের বাড়ি যেতে হয়।” মিষ্টিখুকু অনেক ভালো ছাএী হওয়া সত্বেও অনেক বোকা। বোকামির কারনে মানুষ তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে, সে অনেক সহজ সরল ও ভালো মেয়ে কিন্তুু অন্তুু অনেক চালাক।

ইমরান সোফায় বসে বসে ফোন চালাচ্ছে তখন ইমরানের মা নুরমা বেগম ইমরানের মাথায় আস্তে করে একটা বারি দিয়ে বললো “ বিয়েটা করে নে বাবা প্রতিদিন তোর এতো বিচার আমার আর ভালো লাগে না।”

ইমরান: “ আম্মাজান আজকে আবার কে বিচার দিয়েছে আপনার কাছে? ”

নুরমা : “পাশের বাড়ির মৃদুর মা, তুই নাকি মৃদুর সাথে রাত জেগে কথা বলিস? আর শোন ঐ মেয়ের সাথে আর কথা বলবি না, ঐ মেয়ের চরিত্র ভালো না,ওর আগের স্বামী ওকে ছাইড়া দিছে।“

ইমরান : “ওর সাথে কথা না বললে আমি তো আর মরে যাবো না, ওর মতো দশটা গর্লফ্রেন্ড করতে পারবো কিন্তুু বিয়ে করবো অন্যজনকে।”

নুরমা মাথায় হাত দিয়ে বললো “ তোর যন্ত্রণা আর সহ্য হয় না। ”

উপন্যাস : ইমরান

*উপন্যাস : ইমরান*

*লেখিকা : আনজুম অনন্যা*

*পর্ব ২*

রিতা সকাল সকাল উঠে ইমরানের ঘরে গেলো। তারপর ইমরানের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো, “ভাইয়া, তুই এতো অলস কেন? সকালে উঠতে পারিস না? আর সকালে উঠবিই বা কী করে? সারারাত তো মেয়েদের সাথে কথা বলিস।”

এই কথা শোনার সাথে সাথে ইমরান তাড়াতাড়ি করে বিছানা থেকে উঠে বললো, “তুই কীভাবে জানলি আমি রাত জেগে মেয়েদের সাথে কথা বলি?”

রিতা: “কালকে রাতে আমি তোর ঘরে উঁকি দিয়ে দেখেছি। আমি কিন্তু বাবার কাছে বিচার দেবো।”

রিতার কথা শুনে ইমরান ভয় পেয়ে গেলো। সে ভয়ে ভয়ে বললো, “প্লিজ বোইন, বলে দিস না। এমনিতে আগের বার ফেল করেছি বলে আব্বু কত মেরেছে! এই মেয়েদের সাথে কথা বলার জন্যই প্রতিবার ফেল করি, রেজাল্ট খারাপ হয়। তারপরও রিলেশন করা বাদ দিতে পারি না!”

রিতা: “আচ্ছা, বলে দেবো না। কিন্তু তার বিনিময়ে আমাকে কিছু দিতে হবে।”

ইমরান: “কী চাস বল, তোকে আমি অনেকগুলো চকলেট কিনে দেবো।”

রিতা: “চকলেট দিতে হবে না। আমার শুধু একটা সুন্দরী ভাবি লাগবে। দিতে পারবি না?”

হঠাৎ রান্নাঘর থেকে নুরমা চিৎকার করে বললেন, “এই ইমরান, রিতা, রনি, তোরা এতো অলস কেন? তাড়াতাড়ি মুখ ধুয়ে খেতে আয়।”

ভাই-বোনদের মধ্যে ইমরান সবার বড়, তার থেকে ছোট রনি আর রনির থেকে ছোট রিতা। তারা তিন ভাই-বোন মুখ ধুয়ে খেতে এলো।

নুরমা: “তাড়াতাড়ি খা। আজকে আমরা ইমরানের জন্য মেয়ে দেখতে যাবো। তোদের আব্বা ইমরানের জন্য একটা মেয়ে ঠিক করেছে। তাকেই দেখতে যেতে হবে আমাদের।”

এই কথা শুনে রনি ও রিতা খুব খুশি হলেও ইমরান রেগে গিয়ে বললো, “আমি এখন বিয়ে করবো না। তোমাকে কতবার বলেছি আব্বুকে নিষেধ করতে, উনি যেন আমার জন্য মেয়ে না দেখেন। আমি আগে H.S.C পরীক্ষাটা দেই। আগের বার ফেল করেছি বলে কি এবারও ফেল করবো?আর যদি বিয়ে করে ফেলি তাহলে বউ সামলাবো নাকি পড়ালেখা করবো? তাহলে তো এবারও ফেল হয়ে যাবে।”

নুরমা: “আমি এতোকিছু জানি না, প্রত্যেকদিন তোর এতো বিচার আসে আমাদের কাছে, আর ভালো লাগে না। তুই তোর বাবার কথা শোন, বিয়েটা করে নে।”

রিতা: “হ্যাঁ ভাইয়া, বিয়েটা করে নে। তাহলে আমাদের ভাবি আর তোকে মেয়েদের সাথে কথা বলতে দেবে না।”

এই কথার পর রনি ও রিতা হাসতে লাগলো। নুরমা তাদের ধমক দিয়ে বললো, “তোদের কতোবার বলেছি খাওয়ার সময় হাসাহাসি করবি না, চুপ করে খা।”

ইমরান এবার H.S.C পরীক্ষা দেবে। আগের বছর ২০১৯ সালে সে আইসিটিতে ফেল করেছিলো, তাই আবার পরীক্ষা দেবে। রনি নিউ টেনে পড়ে আর রিতা নাইনে পড়ে।

খাওয়া-দাওয়া শেষে অন্তু এবং মিষ্টিখুকু স্কুলে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে। মিষ্টিখুকু তার রক্তলাল ঠোঁটে গোলাপি লিপস্টিক দিচ্ছে। তার চুলগুলো ছিলো কাঁধ পর্যন্ত, সে তার চুলে দুই ঝুঁটি করলো। অন্তুও মিষ্টিখুকুকে দেখে তার ছোট্ট চুলে দুই ঝুঁটি করলো। মিষ্টিখুকুর অনেক ভালো লাগছিলো তার বোনের গায়ে স্কুল ড্রেস দেখে।

মিষ্টিখুকু যখনই অন্তুর কপালে চুমু দিতে যাবে, তখনই অন্তু মিষ্টিখুকুর হাতে একটা কামড় দিলো। মিষ্টিখুকু চিৎকার করে উঠলো! এটা দেখার পর পরীবিবি অনেক রেগে গেলো! তিনি যখনই অন্তুকে মারতে যাবে, তখনই মিষ্টিখুকু অন্তুর সামনে দাঁড়িয়ে বললো, “প্লিজ আম্মু, অন্তুকে মারবে না। দোষ তো আমি করেছি, ওকে অযথা চুমু দিয়ে বিরক্ত করেছি।”

পরীবিবি মিষ্টিখুকুর উপর রেগে গিয়ে বললো, “তুই ওকে প্রশ্রয় দিস বলেই এগুলো করার সাহস পায়। আর অন্তু, তোর আপু সহজ-সরল বলে তোর আপুকে এইভাবে মারবি নাকি? আমার বড় বোনের সাথে আমি এমনটা করলে সে আমাকে বাঁচাতো না। তোরা ভদ্রমতো স্কুলে যাবি, আর অন্তু, তুই রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় তোর আপুর হাত ছাড়বি না।”

---

উপন্যাস : ইমরান

---

*উপন্যাস:* ইমরান

*লেখিকা:* আনজুম অনন্যা

*পর্ব:* ৩

ইমরানের বাবা বায়েজিদ, মা নুরমা, ভাই-বোন এবং ইমরান—সবাই একটা গাড়িতে করে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যাচ্ছে। বায়েজিদ তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ থেকে একটি মেয়ে পছন্দ করেছেন ইমরানের জন্য। তাকেই তারা দেখতে যাচ্ছে। মেয়েটার নাম হানি। মেয়েটা এবার নিউ টেনে পড়ে, বয়স ১৬ বছর। অনেক গরিব ঘরের মেয়ে। ইমরান তাকে বিয়ে করতে রাজি না হলেও, পরিবারের কথা রাখার জন্যই তাকে দেখতে যেতে হচ্ছে।

কিছুক্ষণ পর তারা সবাই হানির বাড়িতে পৌঁছে গেল। হানির বাবা তাদের একটা ঘরে নিয়ে বসালেন। হানিকে ইমরানের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগে রিতা হানির চুলগুলো বেঁধে দিল এবং ঠোঁটে লিপস্টিক লাগিয়ে দিল। হানি শ্যামবর্ণের মেয়ে। সামান্য সাজেই তাকে কী মায়াবী লাগছে! রিতা নিজেই ওর ওপর থেকে চোখ সরাতে পারছে না।

রিতা হানিকে ইমরানের কাছে নিয়ে গেল। ওখানকার সবাই হানিকে অনেক পছন্দ করলেও ইমরান হানিকে একদম পছন্দ করল না। সে মনে মনে ভাবছে, “কত স্মার্ট মেয়ের সাথে আমি রিলেশন করেছি, আমি কেন এই গাঁইয়া ভূতটাকে বিয়ে করতে যাব?”

নুরমা হানিকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার নাম কী, মা?”

হানি ভয়ে ভয়ে উত্তর দিল, “উম্মে হানি।”

বায়েজিদ বললেন, “যেমন মিষ্টি মেয়ে, তেমন ফুলের মতো মিষ্টি একটা নাম। মাশাআল্লাহ! আমি আমার ছেলের বিয়ে এখানেই দেব। বিয়ের সব আয়োজন আমরা শনিবারে করব। আর মা, ইমরানের নাম্বার তোমাকে দিয়ে গেলাম। এটা দিয়ে তুমি ইমরানের সাথে যোগাযোগ করবে।”

হানি ভয়ে ভয়ে বলল, “আচ্ছা, ঠিক আছে।”

রিতা হানির হাতে একটা কাগজ দিল, যেখানে ইমরানের নাম্বার লেখা ছিল। তারপর তারা সবাই ওখান থেকে বিদায় নিল।

---

মিষ্টিখুকু অন্তুর হাত ধরে হাঁটছে। অন্তু বলল, “আপু, আমার হাতটা ছেড়ে দাও। আমি কি ছোট বাচ্চা নাকি?”

মিষ্টিখুকু হেসে বলল, “না, সোনামণি। রাস্তা দিয়ে কত গাড়ি যাচ্ছে, আমি তোমার হাত কীভাবে ছাড়ি? তাছাড়া আম্মু তোমাকে আমার হাত ধরে হাঁটতে বলেছে। আজকে অল্পের জন্য আম্মুর মার থেকে বেঁচে গেছ শুধু আমার জন্য। আমাকে ধন্যবাদ বলো।”

অন্তু: “ধন্যবাদ, আপুনি!”

তারপর অন্তু মিষ্টিখুকুর হাতে একটা চুমু দিল। ওরা দুই বোন গল্প করতে স্কুলে পৌঁছে গেল। মিষ্টিখুকু অন্তুকে অন্তুর ক্লাসে বসিয়ে নিজের ক্লাসে চলে গেল। ক্লাসে ঢোকার সময় একটা কাগজের প্লেন এসে তার গালে লাগল। তখন মিষ্টিখুকু রাগ করে বলল, “কে আমার দিকে এটা ছুড়েছে? সে কত বড় পাইলট, আমি সেটা দেখতে চাই।”

ক্লাসের সবাই নিলয়কে দেখিয়ে দিল। নিলয় হা হা করে হেসে বলল, “ম্যাডাম, আমি মেরেছি। হা হা হা!”

মিষ্টিখুকু নিলয়ের দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হাসল। ওর দুষ্টুমিগুলো মিষ্টিখুকুর কাছে ভালোই লাগে।

কিছুক্ষণ পর ক্লাস শুরু হলো। মিষ্টিখুকু অনেক ভালো ছাত্রী এবং সহজ-সরল হওয়ার কারণে সব শিক্ষক তাকে অনেক ভালোবাসেন। সে গণিতে অনেক ভালো। যে অঙ্ক ক্লাসের কেউ সমাধান করতে পারে না, সেই অঙ্ক সে নিজে সমাধান করে দেখায়। নিলয় অনেক দুষ্ট। সে একদম পড়ালেখা করে না, সারাক্ষণ দুষ্টুমি করার জন্য গালি খায়। মিষ্টিখুকুর কাছে নিলয়ের দুষ্টুমিগুলো অনেক ভালো লাগে। সেগুলো দেখে নাকি মিষ্টিখুকুর হাসি পায়।

*চলবে...*

---

*উপন্যাস: ইমরান*

*লেখিকা: আনজুম অনন্যা*

*পর্ব: ৪*

নিলয়ের একটা যমজ ভাই আছে, যার নাম হৃদয়। সে নিলয়ের থেকে ২০ মিনিটের ছোট হলেও পড়ালেখায় নিলয়ের থেকে অনেক ভালো। সে নিলয়ের মতো এত দুষ্ট নয়। তারা দুই ভাই দেখতে একই রকম। হৃদয়ের কপালে একটা কাটা দাগ আছে, কিন্তু নিলয়ের মাথায় কোনো কাটা দাগ নেই। এই কাটা দাগটা দেখেই বোঝা যায়, কোনটা নিলয় আর কোনটা হৃদয়।

মিষ্টিখুকু অন্তুকে জিজ্ঞেস করে, “আমাদের স্কুলে 'যেমন খুশি তেমন সাজ' হলে তুমি কী সাজবা?”

অন্তু হেসে বললো, “আমি রাজকন্যা সাজবো!”

মিষ্টিখুকু: “তাহলে আমার অন্তুমণির রাজকুমার কে হবে?”

অন্তু: “ছিয়াম।”

মিষ্টিখুকু: “ছিয়াম আবার কে?”

অন্তু: “আমাদের স্কুলে পড়ে, অনেক বড়লোকের ছেলে।”

মিষ্টিখুকু: “তোমার কি ছিয়ামকে পছন্দ?”

অন্তু: “হ্যাঁ, ছিয়ামের নাম আমার হৃদয়ে লেখা আছে।”

অন্তুর মুখে এমন কথা শুনে মিষ্টিখুকুর অনেক হাসি পেলো।

মিষ্টিখুকু: “এজন্যই তো ছোট মানুষের সিনেমা দেখা ঠিক নয়।”

এই কথা বলে মিষ্টিখুকু অন্তুকে ঘুমাতে নিয়ে গেলো। তারা দুই বোন ঘুমিয়ে পড়লো।

আজ শুক্রবারের রাত। ইমরান আর হানির গায়ে হলুদ। হানির অনেক ভালো লাগছিলো। সে ইমরানকে প্রথম দেখেই প্রেমে পড়ে গেছে। কিন্তু তার মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, ইমরান ওর সাথে কথা বলতে চায় না কেন? যখনই হানি ইমরানকে ফোন দিতো, তখনই দেখতো ইমরানের ফোন নম্বর ব্যস্ত। ইমরান কার সাথে যেন অনেক সময় ধরে কথা বলতো।

আসলে ইমরান তার এক প্রেমিকার সাথে কথা বলতো। সে তার প্রেমিকাকে বলতো, “ভালো তো আমি তোমাকেই বাসি। বাবার কথা রাখার জন্য এই বিয়েটা করতে হচ্ছে। বিয়ের এক-দুই মাস পরে একে ছাইড়া দিয়া তোমারে বিয়া করবো।”

ইমরানের আজ গায়ে হলুদ, তারপরও আজ ইমরানের মনটা খুব খারাপ। সে এই বিয়েতে রাজি নয়, তারপরও তার বাবার কথা রাখতে এই বিয়ে করতে হচ্ছে। সে ভাবে, আজ রাতের মধ্যেই সে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় চলে যাবে, কাউকে কিছু না বলে।

চলবে...

---

Download NovelToon APP on App Store and Google Play

novel PDF download
NovelToon
Step Into A Different WORLD!
Download NovelToon APP on App Store and Google Play