English
NovelToon NovelToon

হৃদয়ের অন্তরালে

পর্ব -১

ফুল দিয়ে সাজানো খাটে নববধূ সাজে খাটের মাঝখানে হাঁটু মুড়ে বসে আছে একটি মেয়ে। অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও সত্য আজ তার বিয়ে হয়েছে তার ই বোনের বরের সঙ্গে।যাকে এতদিন জামাইবাবু বলে ডেকে আসতো তার বউ হয়ে এখন তাকে সারা জীবন পার করতে হবে।কি ভাগ্যের পরিহাস।

এসবই এতোক্ষন ধরে বসে বসে ভাবছিল মেয়েটি। কিন্তু হঠাৎ করেই দরজা লাগানোর আওয়াজ পেতেই সে চমকে দরজার দিকে তাকায়। দেখে তার জামাইবাবু মানে যিনি এখন তার বর তিনি  এসেছেন।

নিজের  জামাইবাবু অর্থাৎ নিজের সদ্য হওয়া স্বামীকে এভাবে দরজা বন্ধ করে খাটের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে মেয়েটি জড়ো সড়ো হয়ে বসে রইল এবং ভাবতে লাগলো তার জীবনের পরিস্থিতি ঠিক কি পর্যায়ে হতে পারে এই মুহূর্ত থেকে। কারণ ও প্রচন্ড ভালোভাবে জানেন যে তার স্বামী তাকে কোনমতেই মেনে নেবেন না কারণ তিনি তার বর্তমান স্ত্রীর দিদিকে প্রচন্ড পরিমানে ভালো বাসেন। তাই তার প্রথম স্ত্রীর জায়গায় তারই বোন বা অন্য কোন মেয়েকে জায়গা দেওয়া তো দূরে থাক। এই কল্পনা করাও ভুল।

কিন্তু মেয়েটিকে অবাক করে দিয়ে মেয়েটির স্বামী যে এরকম একটি ঘটনা ঘটিয়ে ফেলবে তা মেয়েটি কখনো কল্পনাতেও ভাবেনি। কারণ মেয়েটির স্বামী ফুল দিয়ে সাজানো খাটের কাছে এসে হঠাৎই মেয়েটির দিকে কয়েক বান্ডিল টাকা এবং একটি কাগজ ছুড়ে মারে মেয়েটি মুখের দিকে। এবং তা দেখেই মেয়েটি কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে পড়ে রইলো কিন্তু এরপর নিজের সম্বিত ফিরে পেতেই মেয়েটি তার স্বামীর দিকে তাকিয়ে বলল

এসব কি?(বধু সেজে বসে থাকা মেয়েটি)

কেন এখানে এতো অবাক হওয়ার কি আছে । এসবের জন্যই তো তুমি আমাকে বিয়ে করেছিলে তাই না ?আমার মা-বাবাকে নিজের এরকম ভালো মুখশ্রী দেখিয়ে ফাঁসিয়ে আমার টাকার লোভের জন্যই তো এই বাড়িতে বউ হয়ে এসেছ আমি কি ভুল কিছু বলেছি?(মেয়েটির স্বামী)

নিজের স্বামীর মুখে এরকম কথা শুনে মেয়েটি বলে উঠলো

আপনি এসব কি বলছেন আমি এরকম কেন করতে যাব আপনার মা বাবাই তো আমাকে আপনার জন্য,,(বধূ সেজে বসে থাকা মেয়েটি)

কি আমার জন্য?এই বলবে তো যে আমি, মাইশা আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর আমি পাগল হয়ে গেছিলাম রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম ঘরে থাকতাম না এই তো আর তাই তুমি  যেহেতু মায়শার ছোট বোন তাই তোমার সঙ্গে আমার বিয়ে দিয়েছে এই তো বলবে? (মেয়েটির স্বামী)

কিছুটা চিৎকার করে বলে উঠলো।

তারপর আবার বললো

আর তুমি এই সুযোগটাই পুরো লুফে নিলে।আর ভাবলে তুমি যেহেতু মায়শার ছোট বোন তাই তোমার সঙ্গে হাসি মুখে মায়শাকে ভুলে গিয়ে সংসার করবো। বাহঃ চমৎকার তোমার ভাবনা।কি সুন্দর pree plan।তোমাকে তো এর জন্য অস্কার দেওয়া উচিৎ।(মেয়েটির স্বামী মেয়েটির দিকে রাগতো দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল)

মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে বলল

আপনি আমাকে ভুল ভাবছেন। আমি এরকম কিছুই করিনি। বিশ্বাস করুন আমায়।(বধূ সেজে বসে থাকা মেয়েটি)

হাহাহা বিশ্বাস! তাও আবার তোমাকে।আমি মরে যাব তাও তোমাকে কখনো বিশ্বাস করব না। যে নিজের বোন মারা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বোনের ঘর লুটতে চলে আসে তাকে তো আর যাই হোক বিশ্বাস করা যায় না।(মেয়েটির স্বামী তাচ্ছিল্য হেসে বলল)

তারপর মেয়েটির সামনে থাকা কাগজটি দেখিয়ে বলল

আমি তোমাকে আমার বউ হিসেবে মেনে নিতে পারব না এমনকি কাউকেই মেনে নিতে পারব না। এমনকি আমার মায়শার জায়গা আমি কাউকে দিতে ও পারবো না তাই তোমার সামনে যে কাগজটা আছে তাতে এখনই সাইন করে দাও।(মেয়েটির স্বামী)

মেয়েটি ওর স্বামীর দিকে তাকিয়ে বললো

কিসের কাগজ এটা?(বধূ সেজে বসে থাকা মেয়েটি)

কেন তুমি পড়তে পারছো না?শুনেছি তো কলেজে পড়ছো।তাহলে?(মেয়েটির স্বামী)

তারপর আবার বললো

থাক আমি বলে দিচ্ছি এটা হচ্ছে আমাদের কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ এর পেপার। তোমার সাথে যেহেতু আমার বিয়ে হয়ে গেছে তাই তুমি আমার পরিচয় নিয়ে এই বাড়িতে মাত্র ৬ মাস থাকতে পারবে কারণ ৬ মাসের আগে ডিভোর্স সম্ভব নয় তাই। এরপর তুমি চলে যাবে তোমার নিজের জায়গায় আর আমি আমার জায়গায়। তারপর না আমি তোমাকে চিনি আর না তুমি আমাকে চেনো। আশা করি বোঝাতে পেরেছি। ক্লিয়ার। (মেয়েটির স্বামী)

এইসব কথা শুনে মেয়েটি বললো

এসব আপনি কি বলছেন?(বধূ সেজে বসে থাকা মেয়েটি)

কেন বাংলা ভাষাতেই তো বললাম? বুঝতে অসুবিধা হলো নাকি? অসুবিধার তো কথা না।(মেয়েটির স্বামী)

তারপর কিছু একটা ভাবার ভান করে বললো

ও.... বুঝেছি এতো টাকা ঐশ্বর্য হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে এটি তো খুবই কষ্টকর তোমার জন্য।ok ok don't Worry!এতো ও ভাবার কিছু হয় নি।আমি না হয় তোমার জন্য আরো কিছু (এই বলে ড্রয়ার থেকে একটি চেক বুক বের করে ওখান থেকে একটি চেক পেপার ছিঁড়ে তাতে নিজে টাকার পরিমাণ ও সাইন করে মেয়েটির দিকে ছুঁড়ে মারলো।)ওই টাকা গুলির সঙ্গে এই যে টাকা গুলি দিলাম সেটা দিয়ে আসা করি তোমার ভবিষ্যৎ আরামে কেটে যাবে।(মেয়েটির স্বামী)

এদিকে মেয়েটি এতগুলো কথা শুনে যাও বা এতক্ষন ধরে সব কিছু মেনে নিয়েছিল নিজের ভাগ্য ভেবে কিন্তু ও আর মানতে পারলো না নিজের বিবাহিত স্বামীর কাছ থেকে শেষের কথা গুলো শুনে।তাই ও নিজের সমস্ত ধৈর্য হারিয়ে চিৎকার করে ফুল দিয়ে সজ্জিত খাট থেকে নেমে বলে উঠলো

ব্যস অনেক হয়েছে। এতক্ষণ ধরে অনেক কিছু বলেছেন আর আমি তার মুখ বুজে সহ্য করে গিয়েছি বিনা বাক্যে। কিন্তু আর না।(বধু সেজে বসে থাকা মেয়েটি)

তারপর একটু থেমে আবার বলল

আপনি কি যেন বলছিলেন আমি আপনার টাকার লোভে পড়ে এতো বড়ো বাড়ির বউ হবার লোভে আপনাকে ফাঁসিয়েছি। নিজের এই সুন্দর মুখশ্রী দেখিয়ে আপনার বাবা-মাকে ম্যানুপুলেট করেছি তাই তো?(বধু সেজে বসে থাকা মেয়েটি)

বলে কিছুটা তাচ্ছিল্য মতো হেসে আবার বলে উঠলো

এই যে শুনুন আমি জানি আমরা আপনাদের মত এত বড়লোক নই। আমাদের কাছে আপনাদের মত এত টাকা পয়সা নেই ঠিক ই কিন্তু আমার মা বাবা আমাকে এই শিক্ষা দিয়েছে যে কখনো কারো কাছ থেকে কিছু কেড়ে নেওয়া নয় বরং নিজের যোগ্যতার দ্বারা সমস্ত কিছু অর্জন করে নিতে হয় আর সেই ক্ষমতা আমার আছে। তাই আমার আপনার টাকার কোন দরকার নেই।(এই বলে বিছানা থেকে চেক টি নিয়ে সেটি টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে সামনের দিকে উড়িয়ে দিল।)আর আপনার এই বাড়িতে আপনার বউ হয়ে থাকার ও কোনো দরকার নেই। (বধু সেজে বসে থাকা মেয়েটি)

তারপর একটু থেমে আবার বলল

আপনি আমার সাথে কনট্র্যাক্ট ম্যারেজ করতে চাইছেন, তাই তো! ঠিক আছে। আমি এক্ষুনি এখানে সাইন করে দিচ্ছি। আপনার সঙ্গে থাকা কিংবা আপনার নামটাও আমার নিজের নামের সাথে জুড়ে রাখতে আমার ঘেন্না হচ্ছে। আগে আপনাকে আমি ভালো ভাবতাম। নিজের জামাইবাবু ভেবে সম্মান করতাম কিন্তু আপনি সেই সম্মানটারও যোগ্য না। ভাগ্যিস আপনার মা-বাবা আমার কাছে গিয়ে আপনার জন্য বিয়ের সম্বন্ধটা এনেছিল না হলে তো আমি জানতেও পারতাম না এরকম একটা সুন্দর মুখশ্রীর পেছনে এত বড় একজন নোংরা প্রকৃতির মানুষ লুকিয়ে রয়েছে। তার জন্য আমি ওনাদের কাছে শত কোটি ধন্যবাদ জানাবো আমাকে এরকম একজন মানুষের সাথে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার জন্য।(বধু সেজে বসে থাকা মেয়েটি)

এই বলে মেয়েটি একবার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ টির দিকে তাকালো। তারপর তার সামনে থাকা ফুল দিয়ে সজ্জিত বিছানার ওপর থেকে কাগজটি নিয়ে তাতে সাইন করে দিল।

..........………………..............……চলবে।।

Download NovelToon APP on App Store and Google Play

novel PDF download
NovelToon
Step Into A Different WORLD!
Download NovelToon APP on App Store and Google Play