হঠাৎ তখন চিৎকার শোনা যায় নুসরাতের দাদি আমিনাতুন বেগমের। তিনি তার ছোট নাতনি তিশাকে অনবরত ডাকছেন। তা শুনে তিশা বলল, "আসছি দাদি, আসছি। আর চিল্লাইও না। তারপর তিশা বারান্দায় গিয়ে দাদিকে বলে, "তুমি কি সারাদিন পান খেতে থাকো। কিন্তু আমিনাতুন বেগম নাতনির কথাটা শুনতে পাননি, কারণ তিনি একটু কানে কম শোনেন। তাছাড়া তিনি বারান্দায় সোফায় বসে পান চিবোচ্ছিলেন।তারপর তিনি নাতনির উপস্থিতি টের পেয়ে বললেন, আমার পানগুলো একটু ধুয়ে আন। তখন তিশা হ্যাঁ-সূচক মাথা নেড়ে সেখান থেকে চলে যায়। এদিকে মিসেস শিরিন হামিদ এবং তার ছোট জা সুমাইয়া হোসেন সবকিছু তৈরি করে ফেলেছেন। কিন্তু সুমাইয়া হোসেন বললেন, ভাবি, মিষ্টি তো এখনো আনা হয়নি।" তখন মিসেস শিরিন হামিদ বলেন, কি বলো! খানিকক্ষণ পর পাত্রপক্ষ এসে পড়বে। তারপর তিনি তার স্বামী মোঃ আব্দুল হামিদের কাছে গিয়ে বলেন, আপনি তো মিষ্টি আনেননি।" তখন তিনি স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বারান্দায় টেবিলের উপর রাখা আছে, নিয়ে নিও।তারপর মিসেস শিরিন তাদের রুমের চৌকাঠ পেরিয়ে যখন মিষ্টিগুলো নেওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ান, তখন পেছন থেকে তার স্বামী ডেকে বলেন, তোমার মেজো মেয়ে কোথায়?"ষ মিসেস শিরিন বলেন, কলেজে অনুষ্ঠান আছে, সেখানে গিয়েছে।
তখন হামিদ বলেন, ভালো হয়েছে, আপদটা বাড়িতে নেই। না হলে আজকেও পাত্রপক্ষের সামনে আমার মান-সম্মান মাটিতে লুটিয়ে যেত এবং আমার বড় মেয়েরও বিয়ে দেওয়া যেত না। মিসেস শিরিন বলেন, দয়া করে এভাবে বলবেন না। হামিদ তখন স্ত্রীকে রাগান্বিত কণ্ঠে বলেন, "যা বলেছি একদম ঠিকই বলেছি। তোমার ঘাড়ত্যাড়া মেয়ের জন্য যদি আমি আরেকবার অপমানিত হই, তাকে আমি জিন্দা কবর দিয়ে দেব। এই বলে মিসেস শিরিন হামিদকে রুম থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দরজায় খিল মেরে দেন।টেবিলের উপর রাখা মিষ্টিগুলো নিয়ে মিসেস শিরিন হামিদ রান্নাঘরের দিকে যান। তারপর একে একে নাস্তাগুলো সাজাতে থাকেন। তাদের প্রথম মেয়ে বলে কথা। তাই পাত্রপক্ষ মাত্র আসছে, তবুও আয়োজনের কোনো ত্রুটি নেই। রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফলমূল, হাতের তৈরি পিঠা, শরবত, পায়েস, নুডলস, হালিমসহ আরও নানা ঝাল আইটেম। অবশেষে রয়েছে চট্টগ্রামের বিখ্যাত কিছু মিষ্টি আইটেম—মধুভাত, রসগোল্লা, ক্ষীরের সন্দেশ, সাধুর মিষ্টি ইত্যাদি। একে একে প্লেটে সেগুলো সাজাতে থাকেন। ঠিক সে মুহূর্তে বাইরে থেকে দরজার কলিং বেলের আওয়াজ শোনা যায়। তখন মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ দরজাটা খুলে দেন। বারান্দা থেকে দেখেন পাত্রপক্ষ এসেছে। তাদের উঠানে রয়েছে একটা সাদা রঙের গাড়ি। একজন ছোট ছেলে কিছু নাস্তা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আরেকজন যুবক, একজন মহিলা, একজন পুরুষ এবং তাদের সাথে আছেন উকিল জামশেদ মজুমদার। তারপর মিস্টার হামিদ তাদের সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করেন এবং ঘরে আসতে বলেন। তারাও অনেক দূর থেকে এসেছে, তাই বেশ ক্লান্ত। তারাও কুশল বিনিময় করে এবং সালাম দিয়ে হামিদ মনজিল বাড়িতে প্রবেশ করেন।