*কলেজ গেট, ৮:৪৫ মিনিট*
অর্পিতা, রুপা, বৃষ্টি—তিনজন একসাথে ঢুকছে। ঢুকতেই বাতাস ভারী। সব মেয়ের চোখ ওদের দিকে। ফিসফাস কানে আসছে।
"...ওই যে মেয়েটা... ফয়সালকে না করছে..."
"...শুনছিস? কাল রাতে নাকি ফয়সাল ওর বাসার নিচে গেছিল..."
"...ধুর, ফয়সাল তো বলছে ওরা নাকি বিয়ে করতেছে!"
অর্পিতার পা থেমে গেল। চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো। "কী? বিয়ে?" তাও আবার কিনা ওই ছেলের সাথে..
রুপা ওর হাত চেপে ধরলো। "কান দিস না, মানুষের আর কাজ কি গুজব তো ছড়াবেই । চল ক্লাসে।"
কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। করিডোরের শেষ মাথায় ফয়সাল দাঁড়িয়ে। হাতে কোকের ক্যান। চোখ দুটো লাল। রাতে ঘুমায়নি বোঝাই যাচ্ছে।
ওদের দেখেই সোজা এগিয়ে এলো। দূরত্ব মাত্র দুই হাত।
"অর্পিতা," গলাটা শান্ত, কিন্তু ভেতরে ঝড়। "কালকের জন্য সরি। কিন্তু একটা কথা ক্লিয়ার করি। আমি তোমার নামে কোনো গুজব ছড়াইনি।"
অর্পিতা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো। "তাই? তাহলে পুরো কলেজ কেন বলতেছে তুমি আর আমি নাকি 'হ্যাঁ' বলে দিছি? কাল রাতে আমার বাসার নিচে কে গেছিল, ফয়সাল?"
ফয়সাল থমকে গেল। "আমি যাইনি। আমি শপথ করে বলছি।
"মিথ্যা!" চিৎকার করে উঠলো অর্পিতা। রাগে কাঁপতে কাঁপতে পাশের বেঞ্চ থেকে একটা কোকোকোলার ক্যান তুলে নিলো। দুই মিনিটে শেষ। খালি ক্যানটা হাতে মুচড়ে ধরে সোজা ফয়সালের বুকে ছুঁড়ে মারলো।
_ঠং!_
ক্যানটা পড়ে গড়াতে লাগলো। ফয়সাল এক পাও নড়লো না। শুধু চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে অর্পিতাকে।
পরের মুহূর্তে অর্পিতা ওর কলার চেপে ধরলো। সাদা শার্টটা টানটান হয়ে গেল। "এত বড় সাহস তুই এসব মিথ্যা কেন বলিস? এই বাস্টার্ড! ভাবছিস তুই ভালো শিক্ষার্থী, দেখতে শুনতে ভাল বলেই সব মেয়ে তোর পায়ে পড়বে?"
পুরো করিডোর নিস্তব্ধ। একশো জোড়া চোখ, একশোটা ফোন ক্যামেরা।
ফয়সাল ধীরে ধীরে অর্পিতার হাতটা নিজের হাত দিয়ে ঢেকে দিলো। ওর হাত বরফ ঠান্ডা, ফয়সালের হাত আগুন গরম।
"আমি মিথ্যা বলি না, অর্পিতা," ফিসফিস করে বলল, যাতে শুধু ও শুনতে পায়। "আর আমি তোমাকে ভয় পাই না। আমি তোমাকে চাই। তুমি আমার প্রথম 'না'। আর আমি 'না' শুনতে অভ্যস্ত না।"
এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে নিলো অর্পিতা। ফয়সালের শার্টের উপরের দুটো বোতাম ছিঁড়ে গেল। তবে সেদিকে কোনো খেয়াল নেই ছেলেটার। তার দৃষ্টি তো সামনে থাকা মেয়েটির পানে। রেগে থাকা মুখটা দেখতেও কি অসম্ভব সুন্দর লাগছে এটা নিয়েই ভাবছে ফয়সাল।
"তোর সাহস দেখে আমি অবাক," থুতু ফেলার মতো করে বলল অর্পিতা। "দ্বিতীয়বার আমার রাস্তায় আসবি না।"
ঘুরে চলে গেল। রুপা আর বৃষ্টি দৌড়ে ওর পিছে।
ফয়সাল দাঁড়িয়ে রইলো। ছেঁড়া শার্ট, বুকে কোকের দাগ, আর ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বাঁকা হাসি।
দ্বীপ দৌড়ে এলো। "ভাই! তুই ঠিক আছিস? মেয়েটা তো পুরা আগুন!"
ফয়সাল শার্টটা ঠিক করার চেষ্টাও করলো না। চোখ দুটো তখনো করিডোরের শেষ মাথায়, যেখানে অর্পিতা মিলিয়ে গেছে।
"আগুনই তো দরকার ছিল রে দ্বীপ," ফিসফিস করে বলল ফয়সাল। "এতদিন তো সব মোমের পুতুল ছিল। এই প্রথম কেউ পুড়ায় দিলো।"
একটু থেমে যোগ করলো, "ওকে আমার লাগবেই। She is bird. She is my personal bird. খাঁচায় পুরবো না। কিন্তু আকাশটা আমার হবে।"
দ্বীপের গলা শুকিয়ে কাঠ। "ভাই তুই... তুই কি সত্যি...?"
"বিয়ে করব," ফয়সাল চোখ না সরিয়েই বলল। "ও রাজি হোক বা না হোক। অর্পিতা ব্যানার্জী হবে অর্পিতা রহমান।"
চলবে.....
পরবর্তী পড়বে একটা নতুন মানুষের আগমন ঘটবে কে হতে পারে সেই ব্যক্তি গেস করেন তো? এই পর্ব কেমন লেগেছে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন আর পরবর্তী পর্ব চাইলেও কমেন্ট করবেন।
***Download NovelToon to enjoy a better reading experience!***
Updated 4 Episodes
Comments
SOHAN SOHAN
onik sundor
2026-04-24
0