পর্বঃ২

আপু কি হয়েছে তোর, সত্যি করে বল তো।

না না, কিছু হয় নি। (এ কথা বলে চোখের জল আড়াল করার চেষ্টা করলো সাজিয়া)

তাহলে চোখে পানি যে! আবারও কি মলেস্টেড হয়েছিস তুই? আর কত সহ্য করবি, কত বার বললাম এই প্রাইভেট নার্সিং বাদ দে।

কিছুই হয় নি, যা তুই শুয়ে পর। আগামীকাল তোর অফিস আছে। আর এতটুকু সহ্য করতে যদি না পারি তাহলে কিভাবে হবে? তাছাড়া নতুন যে কাজ টা পেয়েছিলাম ওই মহিলা না করে দিয়েছেন। আমি নাকি তার ৮০ বছরের অসুস্থ স্বামীকে সিডিউজ করি, তার স্বামীর কোন দোষ নেই। (কথা গুলো বলতে বলতে চোখ দিয়ে দু'ফোটা জল গড়িয়ে পরলো)

[সাদিয়া কিছু একটা বলতে যাবে ঠিক এমন সময় একটা ম্যাসেজ আসলো ফোনে। ]

আপু, আমার জব টা হয়ে গেছে। এইবার আর কোন কষ্ট হবেনা তোর।

(সাজিয়া উঠে জড়িয়ে ধরলো সাদিয়া কে)

কি বলিস! আলহামদুলিল্লাহ!

সাদিয়া খুশিতে আত্মহারা। এদিকে সাজিয়া বোনের জন্য সেই ভোর থেকে কাপড় স্ত্রী করে গুছগাছ করে দিচ্ছে। সাদিয়া কে ঠিকমতো রেডি করে দিয়ে সাজিয়া নিজেও হসপিটালের দিকে রওনা হলো। এ মাসে খরচ অনেক হয়েছে।এখোনও বাসা ভাড়া বাকি। এরমধ্যে হসপিটালের বাইরে যে কাজ গুলো করতো তার সব গুলোই না করে দিয়েছে। হসপিটালে সে পার্মানেন্ট স্টাফ নয়, এছাড়া বেতন অনেক কম কারণ সে প্রফেশনাল কোন জব করে না। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে সে এই কাজ করতে পারছে তাই যেন অনেক বেশি। তাও তার মায়ের ফ্রেন্ড এর সুপারিশ এ ঢুকেছে এখানে। তবে আজ সে অনেক খুশি অবশেষে সাদিয়া তার ড্রিম জব পেয়েছে। দেশের নাম করা প্রাইভেট কোম্পানিতে সেক্রেটারির জব কম কথা না। ভাবতে ভাবতে হসপিটালে পৌছে গেল সাজিয়া।

তাড়াহুড়ো করে অফিসে ঢুকছিলো সাদিয়া, রাস্তায় প্রচুর জ্যাম ছিল। প্রথম দিনেই যদি লেইট হয় তাহলে কিনা চাকরিই চলে যায়। লিফটে উঠতে গিয়ে জোড়ে ধাক্কা খেল এক অচেনা ছেলের সাথে।

সাদিয়াঃ উফফ! দেখে চলতে পারেন না।

অন্তরঃ কে তুমি সুন্দরী? এর আগে তো কখনো দেখিনি।

সাদিয়া অন্তর এর কথা উপেক্ষা করে লিফটে উঠে দ্রুত বাটন চাপ দিলো যেন এই বখাটে লোক্টা না উঠতে পারে।

অন্তরঃ এই মেয়ে, দাড়াও। এই তোমার নাম কি। কোন ডিপার্টমেন্ট এর তুমি।

কথা শেষ হবার আগেই সাদিয়া চলে গেলো। তাড়াহুড়ো করে অফিসে বসের সব জিনিস গুছিয়ে নিচ্ছে। ইন্টারভিউ দেয়ার সময় কয়েকজন কে গসিপ করতে শুনেছে মি. অন্তর সাহেব খুবই নাজে বস। কোন সেক্রেটারিই ১ মাসের বেশি স্থায়ী হয় না। কিন্তু সাদিয়া যে করেই হোক এই জব হাতছাড়া হতে দিবে না তাই সে সবকিছুর জন্য প্রিপেয়ার্ড হয়ে এসেছে।

মিস সাদিয়া আপনাকে অভি সাহেব ডেকেছেন।

আচ্ছা আপনি যান, আমি আসছি।

অভি স্যার কে সাদিয়ার খুবই ভালো লেগেছে। খুবই ভালো মানুষ। কেন যে তার সেক্রেটারি হলাম না বলে একটা দীর্ঘনিশ্বাস নিলো সাদিয়া।

সাদিয়া অভির দরজায় নক করে বললো আসতে পারি স্যার।

অভিঃ হ্যাঁ আসো আসো। তো কেমন লাগছে প্রথম দিন।

সাদিয়াঃ লজ্জা পেয়ে বললো স্যার এখনো তো কাজ শুরু করিনি, তাই বলতে পারছি না।

অভিঃ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললো সে কি, অন্তর সাহেব এখনো আসে নি? আচ্ছা যাই হোক এই পেপার টা দেখো,,, এখানে আমাদের ইম্পলয়মেন্ট হিসেবে কিছু রিকোয়ারমেন্ট আছে। তোমাকে এখানে সাইন করতে হবে যে তুমি নিজের ইচ্ছেতে জব ছাড়তে পারবে না, যদি আমরা অনুমতি না দেই। আর এই প্রেক্ষাপটে তোমার স্যালারি দ্বিগুণ করা হয়েছে। ভেবে চিন্তা করে সাইন করো, তোমার এই শর্তগুলো ভালো না লাগলে এখনি ডিশিসন নাও। আই মিন আমি জব এর ক্ষেত্রে খুবই স্ট্রিক্ট সাদিয়া। আশাকরি বুঝতে পেরেছো (মুচকি হেসে বললো অভি)

সাদিয়াঃ রিকোয়ারমেন্ট গুলো ভালো ভাবে পড়লো। কোন ঝামেলা নেই শুধু সে নিজ ইচ্ছেতে জব ছাড়তে পারবে না। এটায় সাদিয়ার কোন ঝামেলা নেই কারন সে কখনোই এত ভালো জব কেন ছেড়ে যাবে তার উপ্রে এখন স্যালারি ও দ্বিগুন দিবে। খুবই খুশি লাগলেও একটা লাইন সাদিয়া কে সামান্য অসস্তিতে ফেললো। নিজ ইচ্ছায় জব ছেড়ে দিলে প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই সামান্য লাইন সাদিয়া পুরোপুরি বুঝতে ট্রাই না করে সাইন করে দিলো। কারন সে কখনো এই জব নিজ ইচ্ছায় কেন ছাড়তে চাইবে যদি না সে পাগল হয়ে যায়।

সাদিয়াকে সাইন করতে দেখে অভি একটা মুচকি হাসি দিল।

অভিঃ তোমার আপু কোথাও জব করতে করে?

সাদিয়াঃ হসপিটালের নাম বলতে বলতে ভাবতে লাগলো স্যার আপুর সমন্ধে এত আগ্রহী কেন।

অভিঃ আচ্ছা তুমি এবার আসতে পারো।

সাদিয়াঃ জ্বি স্যার

সাদিয়া চলে যাবার মিনিট পাঁচেক পরে অন্তর এসে অভির রুমে ঢুকলো।

অন্তরঃ ভাইয়া আগেই বল আমার সেক্রেটারি কেমন। যদি আবার কোন বয়স্ক মহিলা হয় তাহলে আগেই বল আমি,,

অভিঃ অন্তর কথা শেষ করার আগেই অভি বল্লো হ্যাঁ রুমে গিয়ে দেখ। আর এসব পাগলামি বাদ দিয়ে এবার কাজে মন দে।

কথা না বাড়িয়ে অন্তর নিজের রুমে চলে আসলো। রুমে ঢুকে থ হয়ে গেলো। এই মেয়েকে সে একটু আগে লিফটের সামনে দেখেছিলো। এই মেয়েই তার সেক্রেটারি হিসেবে পার্ফেক্ট।

সাদিয়াঃ আ-আপ্নি এখানে কি করেন? এক্ষুনি স্যার চলে আসবে বাহিরে যান।

অন্তরঃ আমিই মি. অন্তর। মি. অভি সাহেব কে যেমন বলেছি সে তো দেখি আরও বেশি পার্ফেক্ট মেয়ে চুজ করেছে। যাক এবার থেকে কাযে মন বসবে। গলা কেশে অন্তর সাদিয়া কে বল্লো চলো!

সাদিয়াঃ কোথায়?

অন্তরঃ হা হা, আমি তোমাকে কিডন্যাপ করবো না। শিডিউল দেখো। ক্লাইন্টের সাথে কোথায় মিট করতে হবে চেক করো, নাকি আমাকে দেখে ভুলে গেছো সু-ন্দ্রি, না মানে আই মিন মিস সাদিয়া।

একটা ছবির দিকে তাকিয়ে থেকে অভি নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে সাত বছরের রিলেশনের পরে অভি এবং মোহনা বিয়ের সিধান্ত নেয়। পারিবারিক ভাবে সবাই হ্যাপি ছিল। বিয়ের দিন রাতে হঠাৎ মোহনা অভি কে বললো, অভি তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে। অভি বুঝে উঠার আগে মোহনা দ্রুত গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পরলো। অভি মোহনা কে কল দিয়েই যাচ্ছে। বেশ কিছুক্ষণ পরে মোহনা ফোন রিসিভ করে বল্লো অভি মনে আছে তোমার সাথে প্রথম কোথায় দেখা হয়েছিলো আমাদের? আমি সেই মোমেন্ট,,,

কথা শেষ করার আগেই অভি ফোনের ওপাশ থেকে বিকট আওয়াজ শুনতে পেলো।

তাড়াহুড়ো করে মোহনা কে হসপিটালে নেয়া হলো। মোহনা এক্সিডেন্ট করেছে। গাড়ির সামনে থাকা মেয়েটাকে বাচাতে গিয়ে মোহনার এই দশা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মোহনা না ফেরার দেশে চলে যায়। ডক্টর এর কাছে খোজ নিয়ে জানতে পারে যে মেয়েটা গাড়ির সামনে চলে এসেছে বলে এই এক্সিডেন্ট হয়েছে সে ও মারাত্মক ভাবে জখম হয়েছে। এই হসপিটালেই এডমিট আছে তবে মেয়েটার শরীরে ড্রাগস পাওয়া গেছে। অভি লুকিয়ে লুকিয়ে মেয়েটার সব ইনফরমেশন দেখে রেখেছিলো। শুধু ফেইস দেখতে পারেনি কাতন তখন সে আইসিউ তে ছিল।

কথা গুলো মনে পড়তেই অভির শরীরের রগ গুলো ফুলে উঠলো। চোখ দুটো লাল হয়ে গেলো। সামনে থাকা ছবিটা মোহনা নিজে একেছিল। এই ছবিটা তাকে গিফট করতো তাই এত রাতে ছুটে বেরিয়ে গিয়েছিল ছবি টা আনতে। মোহনা এতিম মেয়ে। অভি ছাড়া তার আর কেউ ছিলনা। ছবিটার উপরে এখনো ব্লাড ঝাপসা হয়ে লেগে আছে। হঠাৎ পৈশাচিক হাসি হেসে উঠলো অভি।

Episodes

Download

Like this story? Download the app to keep your reading history.
Download

Bonus

New users downloading the APP can read 10 episodes for free

Receive
NovelToon
Step Into A Different WORLD!
Download NovelToon APP on App Store and Google Play