একটি এআই-এর নিঃশ্বাস

অধ্যায় ২: একটি এআই-এর নিঃশ্বাস

২৬ জুন, ২০২৬। রাত ১১:৩২:০৮। অজানা দ্বীপ, ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি।

দিনের আলো অনেক আগেই ম্লান হয়ে গেছে। ব্যবসায়িক চুক্তি শেষ হওয়ার পর, আদনান ও নওয়াব আলী আদনানের অস্থায়ী বাসভবনে ফিরে এসেছিলেন। সেদিন বিকেলে রিয়াকে হঠাৎ দেখে আদনানের মনে এক নতুন রহস্যের বীজ বুনো হয়েছিল, যা তাকে অস্থির করে তুলেছিল। সে সন্ধ্যাজুড়ে তার ল্যাপটপের স্ক্রিনে ডুবে ছিল, চিন্তায় মগ্ন। কাজ শেষ হওয়ার পরপরই, সে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত বাটলার নওয়াব আলীকে নিয়ে এক গোপন গন্তব্যের দিকে রওনা হলো।

কয়েক ঘণ্টা পর, একটি ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার এক নির্জন, অজানা দ্বীপের উপর দিয়ে উড়ে গেল। দ্বীপটি অন্ধকারে আবৃত ছিল, কিন্তু উপর থেকে এর আবছা রূপরেখা দেখে মনে হচ্ছিল যেন এটি একটি বিশাল উড়োজাহাজ এবং একটি জাহাজের সংমিশ্রণ। এটিই ছিল 'প্রজেক্ট জিরো'-এর প্রধান হেড বেস, তার বারোটি গোপন ল্যাব এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বারোটি ঘাঁটির মূল স্নায়ুতন্ত্র। হেলিকপ্টারটি দ্বীপের একটি গোপন ভূগর্ভস্থ হ্যাঙ্গারের ভেতরে মসৃণভাবে অবতরণ করল।

হ্যাঙ্গারের বিশাল ধাতব দরজাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যেতেই আদনান ভেতরে পা রাখল। নওয়াব আলী তার ঠিক পেছনেই ছিলেন। ভেতরের বাতাস ছিল ঠান্ডা ও পরিষ্কার, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির মৃদু গুঞ্জনে তা পূর্ণ। মূল নিয়ন্ত্রণ কক্ষে প্রবেশ করে আদনান নিজেকে একটি বিশাল হলঘরে আবিষ্কার করল। চারপাশের দেয়ালজুড়ে অসংখ্য স্ক্রিন জ্বলজ্বল করছিল, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন কোণে অবস্থিত তার অন্যান্য ঘাঁটিগুলোর লাইভ সিসিটিভি ফিড দেখা যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল যেন সে তার হাতের মুঠোয় পুরো পৃথিবীটাকে ধরে রেখেছে।

আদনান ধীরে ধীরে একটি কেন্দ্রীয় কনসোলের দিকে হেঁটে গিয়ে বসলো। তার আঙুলগুলো কিবোর্ডে দ্রুত উড়ে বেড়াচ্ছিল। একে একে সে বিশ্বের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে ছবি নিয়ে আসছিল: বরফের নিচে লুকানো একটি গোপন গবেষণা কেন্দ্র, মরুভূমির গভীরে সুরক্ষিত একটি দুর্ভেদ্য ভল্ট, এমনকি সমুদ্রের গভীরে নিমজ্জিত একটি পরীক্ষাগার। প্রতিটি দৃশ্যই ছিল এই বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করতে আদনানের অসীম প্রচেষ্টা, সুচিন্তিত পরিকল্পনা এবং ব্যয় করা বিপুল অর্থের প্রমাণ। একটি তিক্ত, ক্ষীণ হাসি তার ঠোঁটে ফুটে উঠল। ‘আমার পরিবারের সমস্ত টাকা আমি এগুলো বানাতে পুড়িয়ে দিয়েছি। ভেবেছিলাম মা-বাবাকে চমকে দেব। এখন এই বিপুল খরচই আমার একমাত্র সম্বল।’

নওয়াব আলী শান্তভাবে আদনানের পাশে হেঁটে এসে দাঁড়ালেন, তার চোখও স্ক্রিনগুলোর দিকে নিবদ্ধ। "আপনি যা করেছেন, Master Adnan, তা সত্যিই অসাধারণ। আপনার বয়সে এত কিছু অর্জন করা সত্যিই ব্যতিক্রমী।"

আদনান শুধু মাথা নাড়লো, তার চোখ তখনো মনিটরগুলোতে স্থির। "কিন্তু লাভ কী, নওয়াব চাচা? যাদের জন্য এগুলো তৈরি করেছি, তারাই তো নেই। আর আমার যা ছিল তার ৯০% এখন আমার নয়।" তার কণ্ঠে রাগ আর হতাশা দুটোই মিশে ছিল। "আজ রিয়াকে দেখলাম। সে পকেটমানি দিয়ে গাড়ি কিনছে। যদি সে জানত…"

নওয়াব আলী আদনানের কাঁধে সান্ত্বনার হাত রাখলেন। "Master, যা চলে গেছে, তা নিয়ে ভেবে লাভ নেই। যা হারিয়ে গেছে, তা ফিরিয়ে আনা যায় না। কিন্তু যারা আপনাকে অন্যায় করেছে—তাদের মুখোশ উন্মোচন করা যায়। আর আপনার এই ঘাঁটিগুলোই আপনাকে সেই ক্ষমতা দেবে।"

আদনান অবশেষে স্ক্রিনগুলো থেকে তার দৃষ্টি সরাল। এক নতুন সংকল্প তার মুখে দৃঢ়তা আনল। "হ্যাঁ, নওয়াব চাচা। আমি জানি। আমার আসল কাজ এখন শুরু।"

রাত যত গভীর হতে লাগল, আদনান নির্জন দ্বীপের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে বসে তার নতুন জীবনের প্রথম ধাপগুলো পরিকল্পনা করতে শুরু করল। তার সামনে অজস্র স্ক্রিন, যা এক জটিল বিশ্বের প্রতিটি সূক্ষ্মতাকে প্রতিফলিত করছিল।

i will upload everyday a chapter so if you guys support i will end full season 1 and it is interesting so wait and watch what will happen

Download

Like this story? Download the app to keep your reading history.
Download

Bonus

New users downloading the APP can read 10 episodes for free

Receive
NovelToon
Step Into A Different WORLD!
Download NovelToon APP on App Store and Google Play