ছায়াটা ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিল। মিরাজ মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইটটা শক্ত করে ধরে রাখল। 📱
আলোটা ছায়ার মুখে পড়তেই মেহেরের বুক ধড়ফড় করতে লাগল। তার হাত কাঁপছিল, আর শ্বাস থেমে-থেমে আসছিল।
মুখটা… একদম মিরাজের মতো।
মেহের কাঁপা গলায় বলল —
— "মিরাজ… ওটা… তোমার মতো কেন?"
মিরাজ নিজেকে নিশ্চিত করতে নিজের চোখে হাত দিল। কিন্তু তার নিজের শরীরও কেঁপে উঠছিল। সে হঠাৎ ভীত হল, কারণ তার সামনে থাকা ছায়া যেন মানুষের মতো… কিন্তু মানুষের নয়।
ছায়াটা ধীরে ধীরে হাসল। হাসিটা অদ্ভুত… ঠান্ডা… এবং কোনোরকম উষ্ণতা ছিল না।
— "ভয় পাচ্ছো?"
মিরাজ কন্ঠ স্তব্ধ হয়ে বলল —
— "তুমি কে?"
ছায়াটা ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। তার পায়ের শব্দ লাইব্রেরির নীরবতায় প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। ঠক… ঠক… ঠক… 👣
মেহের পিছিয়ে গেল, তার হাত হাতিয়ার মতো ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল।
— "তিন বছর আগে… তোমরা আমাকে এখানে রেখে চলে গিয়েছিলে…"
মেহের চিৎকার করতে চাইল, কিন্তু গলায় শব্দ আটকে গেল।
— "না… আমরা কাউকে রেখে যাইনি!"
হঠাৎ জানালার বাইরে ঝড়ের বাতাস বইতে লাগল। 🌬️ পাতার শব্দ, পুরোনো কাগজের ভাসা, সব মিলিয়ে ভয়ংকর এক শব্দচিত্র তৈরি করল।
মিরাজ নিচের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ থমকে গেল। মেঝেতে নতুন একটা চিঠি পড়ে আছে। ✉️
— "মেহের… দেখো…"
মিরাজ কাঁপা হাতে চিঠিটা তুলল। কাগজটা ঠান্ডা, যেন বরফের মতো। সে ধীরে ধীরে চিঠিটা খুলল।
চিঠিতে লেখা:
"তোমরা ভুলে গেছ… কিন্তু আমি ভুলিনি… সেই রাতের শেষ চিৎকারটা…"
মেহেরের চোখ বড় হয়ে গেল। তার মাথার ভেতর হঠাৎ ঝলক দিতে লাগল। সে ধীরে ধীরে সব কিছু মনে করতে শুরু করল।
বৃষ্টি পড়ছিল… 🌧️
তাদের তিনজন লাইব্রেরির ভেতর ঢুকেছিল। মেঝেতে পানি পড়ছিল, বাতাস বইছিল, এবং অন্ধকার করিডোর তাদের চারপাশ ঘিরে রেখেছিল।
হঠাৎ একটি চিৎকার।
কেউ হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেছে…
মেহের মাথা চেপে ধরল।
— "আমার… কিছু মনে পড়ছে…"
মিরাজ চিন্তিত হয়ে বলল —
— "কি মনে পড়ছে?"
— "আমরা তিনজন ছিলাম… কিন্তু তৃতীয় জন কে… আমি মনে করতে পারছি না…"
হঠাৎ উপরের তলা থেকে শব্দ উঠল।
ঠক… ঠক… ঠক… 👣
দুজনেই একসাথে উপরের দিকে তাকাল।
ছায়াটা ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছিল।
— "থামো! তুমি কে বলো!" মিরাজ চিৎকার করল।
ছায়াটা থামল না। ধীরে ধীরে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।
হঠাৎ লাইব্রেরির সব আলো একসাথে জ্বলে উঠল। 💡
দুজনেই চারদিকে তাকাল। মেঝেতে আর কোনো চিঠি নেই।
— "আমরা কি ভুল দেখলাম?" মেহের ফিসফিস করে বলল।
মিরাজ কিছু বলল না। তার মোবাইল হঠাৎ কেঁপে উঠল।
একটা নতুন মেসেজ এসেছে।
মেসেজে লেখা:
"তোমরা এখনো বের হতে পারবে না…"
মিরাজের মুখ শুকিয়ে গেল।
ঠিক তখনই লাইব্রেরির দরজা জোরে বন্ধ হয়ে গেল।
ধাম!
— "দরজা বন্ধ হয়ে গেল!" মেহের চিৎকার করল।
মিরাজ দরজার দিকে দৌড়ে গেল। সে দরজা টানল, ধাক্কা দিল… কিন্তু দরজা নড়ল না।
পেছন থেকে ফিসফিস শব্দ এল —
— "এখনো একজন বাকি আছে…"
দুজনেই ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।
দেয়ালে ঝুলানো পুরনো ছবিটা চোখে পড়ল।
ছবিটায় তিনজন দাঁড়িয়ে আছে — মেহের, মিরাজ, আর তৃতীয় জনের মুখ কালো কালি দিয়ে মুছে দেওয়া।
মেহের কাঁপা গলায় বলল —
— "মিরাজ… আমরা কি সত্যিই তিনজন ছিলাম…?"
ঠিক তখনই ছবিটা নিজে নিজে পড়ে গেল।
ঠক!
ছবির পিছনে লাল রঙে লেখা —
"আমি এখনো এখানে আছি… ফিরে এসেছি…"
উপরের তলা থেকে আবার পায়ের শব্দ এল —
ঠক… ঠক… ঠক… 👣
দুজনই ভয়ে জমে দাঁড়াল।
(চলবে....)
আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই?
আমার গল্পটি সবাইকে পড়ার অনুরোধ রইল, আমার গল্প ভালো লাগলে লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন, আমি "এসএসসি পরীক্ষার্থী 'তবুও লিখি, আমার শখ তাই💌
।।আল্লাহ হাফেজ।।
***Download NovelToon to enjoy a better reading experience!***
Updated 3 Episodes
Comments