শেষ চিঠি তাসলিমা জাহান পর্ব ০৩

ঠক… ঠক… ঠক… 👣

পায়ের শব্দটা এবার আরও কাছে এসে থেমে গেল।

মেহের আর মিরাজ নিঃশ্বাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইল।

হঠাৎ ওপরের ঘরের দরজাটা ধীরে ধীরে কড় কড় শব্দ করে খুলে গেল…

— "কে… কে আছে ওখানে?"

মিরাজ কাঁপা গলায় বলল।

কোনো উত্তর নেই।

শুধু ঠান্ডা বাতাস ধীরে ধীরে নিচে নামতে লাগল।

মেহেরের শরীর কেঁপে উঠল।

— "মিরাজ… আমরা নিচে চলে যাই… আমার ভালো লাগছে না…"

— "না… এখন গেলে চলবে না… কেউ আমাদের ডেকেছে…"

ঠিক তখনই ওপরের ঘর থেকে একটা ফিসফিস শব্দ ভেসে এল —

— "এসো…"

দুজনেই জমে গেল।

মেহের ধীরে ধীরে বলল —

— "তুমি শুনলে?"

— "হুম…"

মিরাজ মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালাল।

ধীরে ধীরে তারা সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে লাগল।

প্রতিটা ধাপ যেন ভারী হয়ে উঠছিল।

ঠক… ঠক… ঠক…

হঠাৎ মেহের থেমে গেল।

— "মিরাজ…"

— "কি হয়েছে?"

মেহের কাঁপা হাতে সামনে দেখাল।

সিঁড়ির দেয়ালে আবার একটা ছবি ঝুলছে।

এই ছবিটা আগেরটার মতোই পুরোনো।

কিন্তু এবার ছবিটায় তিনজন না… চারজন দাঁড়িয়ে আছে।

মেহের, মিরাজ… আর সেই অজানা তৃতীয় ব্যক্তি…

আর চতুর্থ জন… দাঁড়িয়ে আছে একটু দূরে…

তার মুখ দেখা যাচ্ছে না।

মিরাজ ছবিটার কাছে গিয়ে তাকাল।

— "এটা তো অসম্ভব…"

ঠিক তখনই ছবির চতুর্থ ছায়াটা যেন একটু নড়ে উঠল।

মেহের ভয়ে পিছিয়ে গেল।

— "মিরাজ… এটা নড়ল!"

হঠাৎ করে ছবিটার কাঁচ ফেটে গেল।

ঠাস!

দুজনেই চমকে উঠল।

ছবির ভেতর থেকে একটা কাগজ ধীরে ধীরে নিচে পড়ে গেল।

মিরাজ কাগজটা তুলে নিল।

লাল কালিতে লেখা —

"তোমরা ফিরে এসেছ… এবার সত্যিটা জানো…"

মেহের গিলে ফেলল লালা।

— "সত্যি… মানে?"

ঠিক তখনই ওপরে ঘর থেকে আবার শব্দ এল —

ঠক… ঠক…

দরজাটা এবার পুরো খুলে গেল।

ভেতরটা অন্ধকার।

মিরাজ সাহস করে সামনে এগোল।

মেহের তার হাত শক্ত করে ধরে রইল।

ঘরের ভেতরে ঢুকতেই ঠান্ডা হাওয়া বইতে লাগল।

ঘরের মাঝখানে একটা পুরোনো টেবিল।

তার ওপর একটা খাম রাখা।

খামের ওপর লেখা —

"শেষ চিঠি"

মেহের কাঁপা হাতে খামটা তুলল।

ধীরে ধীরে খুলল।

ভেতরে একটা চিঠি…

মেহের পড়তে শুরু করল —

"তোমরা আমাকে ভুলে গিয়েছিলে…

তিন বছর আগে এই বাড়িতে যা ঘটেছিল…

তোমরা তিনজন ছিলে… কিন্তু বের হয়েছিলে দুজন…"

মেহের থেমে গেল।

— "মিরাজ… আমরা কি কাউকে ফেলে গিয়েছিলাম?"

মিরাজ কিছু বলল না।

তার চোখ হঠাৎ বড় হয়ে গেল।

— "মেহের… পিছনে তাকাও না…"

মেহেরের বুক ধড়ফড় করতে লাগল।

— "কেন?"

— "তাকিও না…"

কিন্তু ঠিক তখনই মেহের অনুভব করল…

তার পিছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে…

ধীরে ধীরে ঠান্ডা নিঃশ্বাস লাগল তার ঘাড়ে…

— "তোমরা… আমাকে… ভুলে গিয়েছিলে…"

মেহের চিৎকার করে পিছনে ঘুরে দাঁড়াল।

কিন্তু সেখানে কেউ নেই।

হঠাৎ দরজাটা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল।

ধাম!

ঘর অন্ধকার হয়ে গেল।

মোবাইলের আলো নিভে গেল।

মেহের কাঁপা গলায় বলল —

— "মিরাজ… তুমি আছো?"

কোনো উত্তর নেই।

— "মিরাজ…?"

নীরবতা…

ঠিক তখনই অন্ধকারে একটা কণ্ঠ ভেসে এল —

— "এবার… তোমার পালা…"

মেহেরের গলা শুকিয়ে গেল…

তারপর ধীরে ধীরে অন্ধকারের ভেতর থেকে একটা ছায়া এগিয়ে এল…

ঠিক তখনই ছায়াটা মেহেরের দিকে ধীরে ধীরে হাত বাড়াল…

মেহের পিছিয়ে যেতে গিয়ে টেবিলে ধাক্কা খেল।

চিঠিটা মেঝেতে পড়তেই হঠাৎ লাল আলো জ্বলে উঠল।

দেয়ালে আবার ভেসে উঠল সেই চারজনের ছায়া…

আর একসাথে ফিসফিস করে কণ্ঠটা বলল — "এবার সত্যিটা মনে করো…" 😱

__________আসসালামু আলাইকুম ___________

আশা করি সবাই ভালো আছেন, এরপর থাকবে মেহেরের সামনে আসলে কে দাঁড়িয়েছিল,মিরাজ হঠাৎ কোথায় হারিয়ে গেল, অন্ধকার ঘরে কে ফিসফিস করে বলল এবার

তোমার পালা। আল্লাহ হাফেজ,টাটা টাটা💌💌 আসসালামু আলাইকুম।

Download

Like this story? Download the app to keep your reading history.
Download

Bonus

New users downloading the APP can read 10 episodes for free

Receive
NovelToon
Step Into A Different WORLD!
Download NovelToon APP on App Store and Google Play