*উপন্যাস : ইমরান*
*লেখিকা : আনজুম অনন্যা*
*পর্ব ২*
রিতা সকাল সকাল উঠে ইমরানের ঘরে গেলো। তারপর ইমরানের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো, “ভাইয়া, তুই এতো অলস কেন? সকালে উঠতে পারিস না? আর সকালে উঠবিই বা কী করে? সারারাত তো মেয়েদের সাথে কথা বলিস।”
এই কথা শোনার সাথে সাথে ইমরান তাড়াতাড়ি করে বিছানা থেকে উঠে বললো, “তুই কীভাবে জানলি আমি রাত জেগে মেয়েদের সাথে কথা বলি?”
রিতা: “কালকে রাতে আমি তোর ঘরে উঁকি দিয়ে দেখেছি। আমি কিন্তু বাবার কাছে বিচার দেবো।”
রিতার কথা শুনে ইমরান ভয় পেয়ে গেলো। সে ভয়ে ভয়ে বললো, “প্লিজ বোইন, বলে দিস না। এমনিতে আগের বার ফেল করেছি বলে আব্বু কত মেরেছে! এই মেয়েদের সাথে কথা বলার জন্যই প্রতিবার ফেল করি, রেজাল্ট খারাপ হয়। তারপরও রিলেশন করা বাদ দিতে পারি না!”
রিতা: “আচ্ছা, বলে দেবো না। কিন্তু তার বিনিময়ে আমাকে কিছু দিতে হবে।”
ইমরান: “কী চাস বল, তোকে আমি অনেকগুলো চকলেট কিনে দেবো।”
রিতা: “চকলেট দিতে হবে না। আমার শুধু একটা সুন্দরী ভাবি লাগবে। দিতে পারবি না?”
হঠাৎ রান্নাঘর থেকে নুরমা চিৎকার করে বললেন, “এই ইমরান, রিতা, রনি, তোরা এতো অলস কেন? তাড়াতাড়ি মুখ ধুয়ে খেতে আয়।”
ভাই-বোনদের মধ্যে ইমরান সবার বড়, তার থেকে ছোট রনি আর রনির থেকে ছোট রিতা। তারা তিন ভাই-বোন মুখ ধুয়ে খেতে এলো।
নুরমা: “তাড়াতাড়ি খা। আজকে আমরা ইমরানের জন্য মেয়ে দেখতে যাবো। তোদের আব্বা ইমরানের জন্য একটা মেয়ে ঠিক করেছে। তাকেই দেখতে যেতে হবে আমাদের।”
এই কথা শুনে রনি ও রিতা খুব খুশি হলেও ইমরান রেগে গিয়ে বললো, “আমি এখন বিয়ে করবো না। তোমাকে কতবার বলেছি আব্বুকে নিষেধ করতে, উনি যেন আমার জন্য মেয়ে না দেখেন। আমি আগে H.S.C পরীক্ষাটা দেই। আগের বার ফেল করেছি বলে কি এবারও ফেল করবো?আর যদি বিয়ে করে ফেলি তাহলে বউ সামলাবো নাকি পড়ালেখা করবো? তাহলে তো এবারও ফেল হয়ে যাবে।”
নুরমা: “আমি এতোকিছু জানি না, প্রত্যেকদিন তোর এতো বিচার আসে আমাদের কাছে, আর ভালো লাগে না। তুই তোর বাবার কথা শোন, বিয়েটা করে নে।”
রিতা: “হ্যাঁ ভাইয়া, বিয়েটা করে নে। তাহলে আমাদের ভাবি আর তোকে মেয়েদের সাথে কথা বলতে দেবে না।”
এই কথার পর রনি ও রিতা হাসতে লাগলো। নুরমা তাদের ধমক দিয়ে বললো, “তোদের কতোবার বলেছি খাওয়ার সময় হাসাহাসি করবি না, চুপ করে খা।”
ইমরান এবার H.S.C পরীক্ষা দেবে। আগের বছর ২০১৯ সালে সে আইসিটিতে ফেল করেছিলো, তাই আবার পরীক্ষা দেবে। রনি নিউ টেনে পড়ে আর রিতা নাইনে পড়ে।
খাওয়া-দাওয়া শেষে অন্তু এবং মিষ্টিখুকু স্কুলে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে। মিষ্টিখুকু তার রক্তলাল ঠোঁটে গোলাপি লিপস্টিক দিচ্ছে। তার চুলগুলো ছিলো কাঁধ পর্যন্ত, সে তার চুলে দুই ঝুঁটি করলো। অন্তুও মিষ্টিখুকুকে দেখে তার ছোট্ট চুলে দুই ঝুঁটি করলো। মিষ্টিখুকুর অনেক ভালো লাগছিলো তার বোনের গায়ে স্কুল ড্রেস দেখে।
মিষ্টিখুকু যখনই অন্তুর কপালে চুমু দিতে যাবে, তখনই অন্তু মিষ্টিখুকুর হাতে একটা কামড় দিলো। মিষ্টিখুকু চিৎকার করে উঠলো! এটা দেখার পর পরীবিবি অনেক রেগে গেলো! তিনি যখনই অন্তুকে মারতে যাবে, তখনই মিষ্টিখুকু অন্তুর সামনে দাঁড়িয়ে বললো, “প্লিজ আম্মু, অন্তুকে মারবে না। দোষ তো আমি করেছি, ওকে অযথা চুমু দিয়ে বিরক্ত করেছি।”
পরীবিবি মিষ্টিখুকুর উপর রেগে গিয়ে বললো, “তুই ওকে প্রশ্রয় দিস বলেই এগুলো করার সাহস পায়। আর অন্তু, তোর আপু সহজ-সরল বলে তোর আপুকে এইভাবে মারবি নাকি? আমার বড় বোনের সাথে আমি এমনটা করলে সে আমাকে বাঁচাতো না। তোরা ভদ্রমতো স্কুলে যাবি, আর অন্তু, তুই রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় তোর আপুর হাত ছাড়বি না।”
---
***Download NovelToon to enjoy a better reading experience!***
Comments