---
*উপন্যাস:* ইমরান
*লেখিকা:* আনজুম অনন্যা
*পর্ব:* ৩
ইমরানের বাবা বায়েজিদ, মা নুরমা, ভাই-বোন এবং ইমরান—সবাই একটা গাড়িতে করে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যাচ্ছে। বায়েজিদ তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ থেকে একটি মেয়ে পছন্দ করেছেন ইমরানের জন্য। তাকেই তারা দেখতে যাচ্ছে। মেয়েটার নাম হানি। মেয়েটা এবার নিউ টেনে পড়ে, বয়স ১৬ বছর। অনেক গরিব ঘরের মেয়ে। ইমরান তাকে বিয়ে করতে রাজি না হলেও, পরিবারের কথা রাখার জন্যই তাকে দেখতে যেতে হচ্ছে।
কিছুক্ষণ পর তারা সবাই হানির বাড়িতে পৌঁছে গেল। হানির বাবা তাদের একটা ঘরে নিয়ে বসালেন। হানিকে ইমরানের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগে রিতা হানির চুলগুলো বেঁধে দিল এবং ঠোঁটে লিপস্টিক লাগিয়ে দিল। হানি শ্যামবর্ণের মেয়ে। সামান্য সাজেই তাকে কী মায়াবী লাগছে! রিতা নিজেই ওর ওপর থেকে চোখ সরাতে পারছে না।
রিতা হানিকে ইমরানের কাছে নিয়ে গেল। ওখানকার সবাই হানিকে অনেক পছন্দ করলেও ইমরান হানিকে একদম পছন্দ করল না। সে মনে মনে ভাবছে, “কত স্মার্ট মেয়ের সাথে আমি রিলেশন করেছি, আমি কেন এই গাঁইয়া ভূতটাকে বিয়ে করতে যাব?”
নুরমা হানিকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার নাম কী, মা?”
হানি ভয়ে ভয়ে উত্তর দিল, “উম্মে হানি।”
বায়েজিদ বললেন, “যেমন মিষ্টি মেয়ে, তেমন ফুলের মতো মিষ্টি একটা নাম। মাশাআল্লাহ! আমি আমার ছেলের বিয়ে এখানেই দেব। বিয়ের সব আয়োজন আমরা শনিবারে করব। আর মা, ইমরানের নাম্বার তোমাকে দিয়ে গেলাম। এটা দিয়ে তুমি ইমরানের সাথে যোগাযোগ করবে।”
হানি ভয়ে ভয়ে বলল, “আচ্ছা, ঠিক আছে।”
রিতা হানির হাতে একটা কাগজ দিল, যেখানে ইমরানের নাম্বার লেখা ছিল। তারপর তারা সবাই ওখান থেকে বিদায় নিল।
---
মিষ্টিখুকু অন্তুর হাত ধরে হাঁটছে। অন্তু বলল, “আপু, আমার হাতটা ছেড়ে দাও। আমি কি ছোট বাচ্চা নাকি?”
মিষ্টিখুকু হেসে বলল, “না, সোনামণি। রাস্তা দিয়ে কত গাড়ি যাচ্ছে, আমি তোমার হাত কীভাবে ছাড়ি? তাছাড়া আম্মু তোমাকে আমার হাত ধরে হাঁটতে বলেছে। আজকে অল্পের জন্য আম্মুর মার থেকে বেঁচে গেছ শুধু আমার জন্য। আমাকে ধন্যবাদ বলো।”
অন্তু: “ধন্যবাদ, আপুনি!”
তারপর অন্তু মিষ্টিখুকুর হাতে একটা চুমু দিল। ওরা দুই বোন গল্প করতে স্কুলে পৌঁছে গেল। মিষ্টিখুকু অন্তুকে অন্তুর ক্লাসে বসিয়ে নিজের ক্লাসে চলে গেল। ক্লাসে ঢোকার সময় একটা কাগজের প্লেন এসে তার গালে লাগল। তখন মিষ্টিখুকু রাগ করে বলল, “কে আমার দিকে এটা ছুড়েছে? সে কত বড় পাইলট, আমি সেটা দেখতে চাই।”
ক্লাসের সবাই নিলয়কে দেখিয়ে দিল। নিলয় হা হা করে হেসে বলল, “ম্যাডাম, আমি মেরেছি। হা হা হা!”
মিষ্টিখুকু নিলয়ের দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হাসল। ওর দুষ্টুমিগুলো মিষ্টিখুকুর কাছে ভালোই লাগে।
কিছুক্ষণ পর ক্লাস শুরু হলো। মিষ্টিখুকু অনেক ভালো ছাত্রী এবং সহজ-সরল হওয়ার কারণে সব শিক্ষক তাকে অনেক ভালোবাসেন। সে গণিতে অনেক ভালো। যে অঙ্ক ক্লাসের কেউ সমাধান করতে পারে না, সেই অঙ্ক সে নিজে সমাধান করে দেখায়। নিলয় অনেক দুষ্ট। সে একদম পড়ালেখা করে না, সারাক্ষণ দুষ্টুমি করার জন্য গালি খায়। মিষ্টিখুকুর কাছে নিলয়ের দুষ্টুমিগুলো অনেক ভালো লাগে। সেগুলো দেখে নাকি মিষ্টিখুকুর হাসি পায়।
*চলবে...*
---
*উপন্যাস: ইমরান*
*লেখিকা: আনজুম অনন্যা*
*পর্ব: ৪*
নিলয়ের একটা যমজ ভাই আছে, যার নাম হৃদয়। সে নিলয়ের থেকে ২০ মিনিটের ছোট হলেও পড়ালেখায় নিলয়ের থেকে অনেক ভালো। সে নিলয়ের মতো এত দুষ্ট নয়। তারা দুই ভাই দেখতে একই রকম। হৃদয়ের কপালে একটা কাটা দাগ আছে, কিন্তু নিলয়ের মাথায় কোনো কাটা দাগ নেই। এই কাটা দাগটা দেখেই বোঝা যায়, কোনটা নিলয় আর কোনটা হৃদয়।
মিষ্টিখুকু অন্তুকে জিজ্ঞেস করে, “আমাদের স্কুলে 'যেমন খুশি তেমন সাজ' হলে তুমি কী সাজবা?”
অন্তু হেসে বললো, “আমি রাজকন্যা সাজবো!”
মিষ্টিখুকু: “তাহলে আমার অন্তুমণির রাজকুমার কে হবে?”
অন্তু: “ছিয়াম।”
মিষ্টিখুকু: “ছিয়াম আবার কে?”
অন্তু: “আমাদের স্কুলে পড়ে, অনেক বড়লোকের ছেলে।”
মিষ্টিখুকু: “তোমার কি ছিয়ামকে পছন্দ?”
অন্তু: “হ্যাঁ, ছিয়ামের নাম আমার হৃদয়ে লেখা আছে।”
অন্তুর মুখে এমন কথা শুনে মিষ্টিখুকুর অনেক হাসি পেলো।
মিষ্টিখুকু: “এজন্যই তো ছোট মানুষের সিনেমা দেখা ঠিক নয়।”
এই কথা বলে মিষ্টিখুকু অন্তুকে ঘুমাতে নিয়ে গেলো। তারা দুই বোন ঘুমিয়ে পড়লো।
আজ শুক্রবারের রাত। ইমরান আর হানির গায়ে হলুদ। হানির অনেক ভালো লাগছিলো। সে ইমরানকে প্রথম দেখেই প্রেমে পড়ে গেছে। কিন্তু তার মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, ইমরান ওর সাথে কথা বলতে চায় না কেন? যখনই হানি ইমরানকে ফোন দিতো, তখনই দেখতো ইমরানের ফোন নম্বর ব্যস্ত। ইমরান কার সাথে যেন অনেক সময় ধরে কথা বলতো।
আসলে ইমরান তার এক প্রেমিকার সাথে কথা বলতো। সে তার প্রেমিকাকে বলতো, “ভালো তো আমি তোমাকেই বাসি। বাবার কথা রাখার জন্য এই বিয়েটা করতে হচ্ছে। বিয়ের এক-দুই মাস পরে একে ছাইড়া দিয়া তোমারে বিয়া করবো।”
ইমরানের আজ গায়ে হলুদ, তারপরও আজ ইমরানের মনটা খুব খারাপ। সে এই বিয়েতে রাজি নয়, তারপরও তার বাবার কথা রাখতে এই বিয়ে করতে হচ্ছে। সে ভাবে, আজ রাতের মধ্যেই সে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় চলে যাবে, কাউকে কিছু না বলে।
চলবে...
---
***Download NovelToon to enjoy a better reading experience!***
Comments