নিস্তব্ধ রাত*
রাত ১২টা পার। হোস্টেলের ছাদ।
আদিত্য খান রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়ায় আছে। গায়ে খয়রি রঙের টি-শার্ট, ঢোলা ট্রাউজার। বাতাসে চুল উড়তেছে। হাতে কোনো চেইন নাই, ফোন নাই। শুধু নিস্তব্ধ রাত আর বুকের ভিতর হাজারটা কথা।
পিছন থেকে সাদমান উঠে আসলো। "কিরে ভাই, তুই এখানে? কাল সেমি ফাইনাল। কোচ মারবে তো।"
আদিত্য ঘুরলো না। "ঘুম আসে না।"
সাদমান পাশে এসে দাঁড়ালো। "মেহেদী স্যাররে দেখছি তোরে আলাদা ডেকে কথা বলতেছে আজকে। বকা দিছে?"
"না," আদিত্য একটা শ্বাস ফেললো। "স্যার বলছে, 'মাঠে মন না থাকলে 10 নাম্বার জার্সি খুলে রাখো আদিত্য'।"
"তো মন কই তোর?" সাদমান ভ্রু কুঁচকালো। "নতুন কেউ?"
আদিত্য কিছুক্ষণ চুপ। তারপর আকাশের দিকে তাকায় বললো, "তোর মনে আছে ক্লাস টেনের কথা? First girl অর্পিতার কথা।
হুম।
সেই থেকেই ও আমার crush। সাদা ড্রেস, চুলে বেনী। আমার দিকে তাকায় হাসছিল।" আদিত্যর ঠোঁটে হালকা হাসি। "ওইদিন প্রথম... বুকের ভিতর কেমন জানি করছিল।"
সাদমান চোখ বড় বড় করলো। "ওয়েট, তুই class 10 থাকতে ক্রাশ খেয়েছিস আর এখন বলছিস ।
আদিত্য মাথা নাড়লো। "হ। অর্পিতা ব্যানার্জী। এসএসসির পর আমি কুমিল্লা চলে আসলাম, ও কই গেল জানি না।
"তুই তখন কেন আমায় বলিস নি?
এমনি।
আদিত্য রেলিং শক্ত করে ধরলো। "ক্লাস টেন থেকে। ৪ মাস। মাঝখানে একবারও দেখা নাই। ভাবছিলাম ভুলে যাবো। কিন্তু..."
"কিন্তু কী?"
"কিন্তু কলেজে ভর্তির পর প্রথম দিন লাইব্রেরির সামনে দেখলাম। সাদা কামিজ, কানে ছোট দুল। ফোনে কার সাথে জানি ঝগড়া করতেছিল।" আদিত্যর গলা ধরে আসলো। "৪ মাস পর। সেম চোখ, সেম রাগ। আমি আবার স্ট্যাচু।"
সাদমান আদিত্যর কাঁধে হাত রাখলো। "তাইলে TSC-এর কাহিনী কী? তুই না বললি TSC-তে দেখছিস?"
আদিত্য মাথা নাড়লো। "TSC না। ভুল বলছিলাম। প্রথম দেখা ফুটবল মাঠে। আর দ্বিতীয় দেখা এই ক্যাম্পাসে, পরীক্ষার পর। মাঝখানে শুধু শূন্যতা।"
রাতের বাতাসে খয়রি টি-শার্টটা উড়তেছে। আদিত্য ফিসফিস করলো, "আমি ওরে বলতেও পারি না, আমি সেই ক্লাস টেনের ছেলেটা। যে ওর একটা হাসির জন্য আজও রাতে ঘুমায় না।"
*পরদিন সকাল, English class
অর্পিতা, বৃষ্টি, রুপা ফার্স্ট বেঞ্চে বসে আছে। সামনে হোয়াইট বোর্ড।
"ধুর, এই English grammer আমার মাথায় ঢুকে না," বৃষ্টি খাতা বন্ধ করলো। "তার উপর নতুন স্যার আসবে নাকি আজকে।"
রুপা ঠোঁট উল্টালো। "নতুন স্যার মানেই আরও প্যারা। হোমওয়ার্কের বোঝা।"
ঠিক তখনই দরজা খুলে ঢুকলো মেহেদী স্যার। বয়স ৩৫-৩৬ হবে। ফর্সা, লম্বা, ক্লিন শেভড। গায়ে নেভি ব্লু ফর্মাল শার্ট, হাতা গুটানো। চোখে চশমা। হাতে মার্কার।
পুরা ক্লাস দাঁড়ায় সালাম দিলো।
"বসো," স্যারের গলা ভারী কিন্তু শান্ত। "আমি মেহেদী হাসান। আজ থেকে তোমাদের English নিবো।"
অর্পিতা খাতা খুলতে গিয়ে থেমে গেল। স্যারের দিকে তাকায় রইলো। স্যার বোর্ডে নাম লিখতেছে। হাতের লেখা সুন্দর। কথা বলার স্টাইল ধীর, বুঝায় বলতেছে।
বৃষ্টি কনুই দিয়ে গুঁতা মারলো। "কিরে? হাঁ করে কী দেখিস?"
অর্পিতা তাড়াতাড়ি চোখ সরায় নিলো। "ক-কই? কিছু না। নোট করতেছি।"
কিন্তু ৪৫ মিনিটের ক্লাসে অর্পিতা একটা নোটও লিখলো না। শুধু দেখলো। স্যার যখন হেসে একটা উদাহরণ দিলো, অর্পিতার বুকের ভিতর কেমন জানি করলো।
ক্লাস শেষে স্যার বের হয়ে গেল। রুপা ব্যাগ গুছাইতে গুছাইতে বললো, "স্যারটা কিউট আছে না? ভয়েসটা সুন্দর।"
বৃষ্টি হাসলো, "তোর তো সবাইরেই কিউট লাগে।"
অর্পিতা কিছু বললো না। ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে গেল। কিন্তু করিডোরে এসে একবার পিছন ফিরে স্টাফ রুমের দিকে তাকালো।
মনে মনে বললো, "ধুর, আমি কি পাগল হয়ে যাইতেছি? স্যারের উপর ক্রাশ?"
কিন্তু পরদিন ক্লাসে আবার ফার্স্ট বেঞ্চ। খাতা খোলা। আর চোখ... চোখ আবার মেহেদী স্যারের দিকে।
*[চলবে...]*
***Download NovelToon to enjoy a better reading experience!***
Updated 4 Episodes
Comments
SOHAN SOHAN
🥰🥰🥰🥰🥰
2026-04-25
1