প্রতিশ্রুতি
#প্রতিশ্রতি
সাত জন্মের বন্ধন
#লেখিকা:মায়শা ইসলাম নেহা
নীল রঙের শাড়ি পরে একজন সুন্দরী রমণী ক্যাফের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কোমর ছাড়িয়ে লম্বা চুলগুলো খোঁপা করে একটা সুন্দর লাল গোলাপ 🌹 গুঁজে রাখা হয়েছে। হাতে রেশমী চুড়ি,, তাঁর কাজল কালো চোখ,, ঠোঁটে হালকা করে ঠোঁট কালার লিপিস্টিক দেওয়া,, এসব জেনো তাঁর সৌন্দর্য কে আরও দ্বিগুন বাড়িয়ে তুলেছে।
এমন আকর্ষণীয় মোহময় নারী কে যেই পুরুষ একবার দেখবে সে তো পুরো পাগল হয়ে যাবে। হঠাৎ পেছন থেকে পুরুষ শালী কন্ঠে ভেসে আসলো.....
কী ব্যাপার আলেশা তুমি বাইরে দাঁড়িয়ে আছো,, এখনো ভেতরে যাও নি কেনো..??
আলেশা কন্ঠের শ্বর টি চিনতে পেরে,, তড়িঘড়ি করে পিছন ফিরে তাকালো। দেখতে পেলো...
সাদা টি-শার্ট আর কালো ট্রাউজার পরে এক সুদর্শন পুরুষ দাঁড়িয়ে আছে... তাঁর চোখ দুটো বাদামী রঙা,, ঠোঁট হালকা গোলাপী রঙের,, এমন হ্যান্ডসাম ছেলেকে দেখে আলেশা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তারপর চোখ সরিয়ে আলেশা জবাব দিলো....
হ্যাঁ এইতো তোমার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু তোমার আসতে এতো দেড়ি হলো কেন আরমান..??
ওই আসলে একটু আর্জেন্ট দরকার ছিল,,তাই দেড়ি হয়ে গেল..চলো ভেতরে গিয়ে বলছি। এখানে দাঁড়িয়ে থেকে তোমার পা ব্যাথা হয়ে গেছে নিশ্চয়ই..??
আলেশা মুচকি হেসে বলল...আরে না সমস্যা নেই। চলো ভেতরে যাই।
তারপর দুই জন ভিতরে গিয়ে একটা কোনায় টেবিলে বসে,,ওয়েটার কে ডেকে একটা কফি অর্ডার করল...।
তারপর দুইজনের কথপোকথন.... কেন আরমান এর আসতে দেড়ি হলো..?কী করছিল..?? সবকিছু আলেশা কে খুলে বললো।
কলেজে একটা ঝামেলা হয়েছে। তাই আমাকে ডাকা হয়েছে যাতে এর সলিউশন দিতে পারি।
ওও আচ্ছা। তা কি হলো সলিউশন হয়ছে কী..?? আমি জানি তুমি যেখানে যাবে প্রবলেম সলভ করেই আসবে।
ওহ এতো বিশ্বাস। হ্যাঁ তবে সলভ হয়ছে সামান্য বিষয় নিয়েই ঝামেলা করছিল।
জি মহারাজ আপনার উপর আমার অগাধ বিশ্বাস আছে।
যাক আপনি যে আমাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম করেন ভালো লাগলো।
তারপর,,,
ওয়েটার এসে দুই জনের কফি দিয়ে গেলো..আলেশার দিকে কফি টা বাড়িয়ে দিলো,, তারপর নিজেও কফির গ্লাস হাতে নিলো...
কফি খেতে খেতে হঠাৎ আরমান আলেশার দিকে চোখ দিলো আর বললো...আরে বাহ্ আলেশা তোমাকে তো আজকে অনেক সুন্দর লাগছে।
ইস্ তোমাকে দেখে তো ফিদা হয়ে গেলাম,, ইচ্ছা করছে আবার তোমার প্রেমে নতুন করে পরি।
আলেশা একটু লজ্জা পেলো...
হয়েছে আর ঢং করতে হবে না ,, তোমাকেও কম সুন্দর লাগছে না...যে মেয়ে তোমাকে দেখবে সে তো তোমার পিছন পরে থাকবে,,লাইন মারার জন্য...। এখনি বা কম কি ওই দেখো মেয়েগুলো কিভাবে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে...
মনে হয় জীবনেও কোনো ছেলে দেখে নি,, ইচ্ছে করছে চোখ গুলো উপরে ফেলি।
হয়ছে আর এসব করতে হবে না। তুমি কি এখন ওদের সাথে গিয়ে ঝগড়া করবে নাকি।
না সেটা না তুমি এতো হ্যান্ডসাম যে আমার এখানেই ভয়,, সবাই তোমার উপর নজর দিবে।
ও আচ্ছা আমি তো খুব শান্তিতে আছি এমন সুন্দরী বউ নিয়ে,, আপনার উপর ও ছেলেরা নজর দিবে ম্যাডাম এটাই আমার ভয়। 😌
মোটেও ভয় করার কিছু নেই,,আমি নিজেকে প্রটেক্ট করতে পারি বুঝলেন।
আলেশা চৌধুরী নিজেকে হেফাজতে রাখতে জানে।
হ্যাঁ এই আরমান চৌধুরী ও কোনো কিছুতে কম নয়,,সে তাঁর রাণী কে ছাড়া অন্য কারো দিকে তাকাবে না। অন্য কাউকে দেখার সময় নেই তাঁর। বুঝলেন সেহজাদি।
এভাবে হাসি ঠাট্টা করে কফি খাওয়া শেষ করলো।
কফি খাওয়া শেষ করে,, আরমান আলেশাকে গাড়ির চাবি দিয়ে বসতে বললো। আর আরমান কফির বিল পে করে এসে গাড়িতে বসলো..।
তো ম্যাডাম এবার কোথায় যাবেন..??
না না আর কোথাও যেতে হবে না। এখন সোজা বাড়ি যাবো..। অনেক দেড়ি হয়ে গেছে,, আমাকে বাড়িতে ড্রপ করে দেও তাতেই হবে।
যো হুকুম মহারানী.. আপনি যাহা আদেশ করিবেন আমি তাহা মানতে বাধ্য থাকিব।
হয়ছে আর ঢং করতে হবে না। চলো এবার ...
আরমান আলেশাকে বাড়ির থেকে একটু দূরে নামিয়ে দিলো...
কেননা, আলেশার পরিবারের কেউ যদি দুইজন কে একসাথে দেখে ফেলে তাহলে অনেক বড় প্রবলেম হবে।
আলেশা আর আরমানের ফ্যামিলি কেউ একেঅপর কে সহ্য করতে পারে না। এই বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানা যাবে ।
এখন,
আরমান আলেশা কে নামিয়ে দিয়ে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলো..। দুইজনের বাড়ির দূরত্ব এক ঘন্টার পথ গাড়ি নিয়ে।
***Download NovelToon to enjoy a better reading experience!***
Updated 34 Episodes
Comments