বিকাল তিনটার দিকে,,
আলেশা রেডি হয়ে ক্যাফের উদ্দেশ্য রওনা হয়।পরনে তাঁর কালো থ্রি পিস,,মাথার চুল গুলো খোঁপা করে তাঁতে আলতো করে মাথায় কাপড় দেওয়া,, ঠোঁটে হালকা গোলাপী লিপিস্টিক।
ক্যাফের ভেতরে প্রবেশ করে দেখে আরমান আগে থেকেই টেবিল বুক করে বসে আছে,, সাথে একটা ছেলে ওই বয়স প্রায় ২৫ হবে আরমানের ২ বছরের ছোট মেইবি। আরমানের সাথে কোনো ছেলেকে দেখে সামনে আগাতে ইতস্তত বোধ করলো আলেশা।
আরমান আর সাথের ছেলেটি কথা বলছিল হঠাও,,ছেলেটি বলে উঠলো...
ওই দেখো ভাইয়া ভাবি।
আরমান ছেলেটির কথা শুনে পিছন ফিরে তাকালো,,দেখতে পেলো তাঁর প্রাণ প্রিয় রমনী কে। বহুদিন দেখে নি তাঁকে। তারপর,,আলেশার চোখে চোখ পরতেই আরমান ইশারা দিয়ে তাদের কাছে আসতে বলে।
আলেশা একটু লজ্জা পেয়ে তারপর সামনে এগিয়ে গেলো। গিয়ে আরমানের পাশের সিটে বসে পরল।
তারপর,,
আরমান আলেশার দিকে তাকিয়ে বলে....
ওও ইমরান আমার ছোট ভাই,, তোমাকে বলেছিলাম না আমার ছোট ভাই আছে,,ও সেই ।
আলেশা একটু লজ্জা পেল,, তারপর ইমরান কে সালাম দিল...
আসসালামুয়ালাইকুম ভাইয়া।
ওয়ালাইকুমুস সালাম।আলেশাকে লজ্জা পেতে দেখে ইমরান আরেকটু বাড়িয়ে দিল,,বলতে লাগলো....
কী ব্যাপার ভাইয়া তোমরা যে ম্যাচিং ড্রেস পরেছো,,বাহ্ কি ভালোবাসা তোমাদের।
আলেশা শুনে লজ্জায় লাল হয়ে গেলো। ব্যপারটা আরমান খেয়াল করে ইমরান এর উদ্দেশ্য বলতে লাগলো....
আরে ভাই থাম তুই দেখছিস তো তোর ভাবি লজ্জা পাচ্ছে,,,দেখবি এখন না এখান থেকে উঠে পালিয়ে যায়। এই বলে আরমান জোড়ে হাসতে লাগল।
আলেশা:- মোটেও আমি লজ্জা পাচ্ছি না,,আমি তো ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে আছি,, ভাইয়া কি হ্যান্ডসাম। এমন হ্যান্ডসাম ছেলের কোনো গার্লফ্রেন্ড থাকবে না সেটা তো হতে পারে না। কি ভাইয়া 🙂 ভাবির সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিবেন না..?
আমাদের ব্যাপারে জানলেই কি হবে..? আপনার টাও তো বলতে হবে।
আরমান: ঠিক বলছো এই তোর গার্লফ্রেন্ড নাই.? তাঁর সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিবি না..? তাড়াতাড়ি বল মেয়েটা কে.?? বাসায় কোথায় তাঁর..?
উফ্ ভাইয়া তোমরা বেশি বলছো,,, আমার কোনো গার্লফ্রেন্ড নাই।
না না ভাইয়া এড়িয়ে গেলে হবে না ,, আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে।
হ্যাঁ তোর ভাবি ঠিক বলছে। তুমি তলে তলে এই করছো না। আমাদের ব্যাপারে সব জানো... আর নিজের ব্যাপারে বলতে চাচ্ছ না ..! দাঁড়া তোর বাড়ি গিয়ে হচ্ছে।
উফ্ তোমরা থামো,, এখানে ঝগড়া করতে শুরু করলে।
আচ্ছা ঠিক আছে ভাই,,সব হবে,,এখন আমরা এখানে আছি ওইসব বাদ দেও।
আচ্ছা ভাইয়া,, তোমাদের কথা তো কেউ জানে না। কিন্তু,, একদিন তো সবাই সব জানতে পারবে...তখন কি হবে..? কেউ তো তোমাদের সম্পর্ক টা মেনে নিবে না।
মানবে না মানাতে হবে ভাই। কারণ,,আমরা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করতে পারব না,, এরকম কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই..! ফ্যামিলির সবাই কে যেভাবে হোক রাজি করাতেই হবে।
তাছাড়া মা-বাবা আমাকে খুব ভালোবাসে,,আর আমার প্রতিটা সিদ্ধান্ত কে তাঁরা সম্মান করে,, তাহলে আমি যাকে ভালোবাসি তাকে কেন মানবে না..?
হুম সেটাই আমার মা-বাবা ও আমাকে খুব ভালোবাসে। আর আমি তাদের একমাত্র মেয়ে,, তাঁর ভালোবাসা মানবে না..? সবাই মিলে যদি বুঝিয়ে বলি দেখবেন ঠিক মানবে।
আমরা ২ জনেই মা-বাবা কে খুব ভালোবাসি। তাই তাদের থেকে আলাদা হবার চিন্তা ও করি না।
হ্যাঁ ঠিক আর আমি তো আছি তোমাদের পাশে,, সবাই ঠিক মানিয়ে নিবো। কিন্তু,,আমি এই কথাটা এখনো বুঝলাম না এতো মান-অভিমান কিসের,,একটা সময় তো তোমাদের বিয়ে দেবে বলে তাড়া কথা কিছু করল। ছোট বেলায় তোমাদের বিয়ে ঠিক করে রেখেছিল। তাহলে এখন এই অভিমান কিসের..?
সেটা আমরাও বুঝতে পারলাম না,,এখন তাড়া একেঅপরকে দেখতেই পারে না।
সেটা যাই হোক আমাদের মানাতেই হবে।
চলুন,, এবার যাওয়া যাক সেই অতীতে...কি এমন হয়েছিল সেই সময়ে..? আমরাও একটু বিস্তারিত জেনে আসি... তাহলে ব্যাপারটা বুঝতে পারবো।
***Download NovelToon to enjoy a better reading experience!***
Updated 34 Episodes
Comments